ভিডিও রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৮ পিএম

দুর্ঘটনা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই বেশি

বগুড়ায় ২ বছরে দেড় হাজার অগ্নিকান্ড, ক্ষতি ১৮ কোটি টাকা, উদ্ধার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ

বগুড়ায় ২ বছরে দেড় হাজার অগ্নিকান্ড, ক্ষতি ১৮ কোটি টাকা, উদ্ধার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ

স্টাফ রিপোর্টার : গত দুই বছরে বগুড়ায় প্রায় দেড় হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকার সম্পদ আর উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ। এই আগুন গুলোর মধ্যে অধিকাংশই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বাসা-বাড়িতে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বলেন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই সবচেযে বেশি আগুন লাগে।

নিম্নমানের ও ক্রটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ফিটিং ব্যবহার ও ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে নিয়মিত বৈদ্যুতিক তার পরীক্ষা না করানোর কারণে প্রধানত: বৈদ্যুতিক গোলযোগ হচ্ছে। আর এই গোলযোগ থেকে বেশি আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।

সেইসাথে বিড়ি-সিগারেটের জলন্ত টুকরো, জলন্ত মশার কয়েল, গ্যাস, ইলেকট্রিক ও মাটির চুলা,উপ্তপ্ত ছাই, বাজি পোড়ানো, যানবাহন দুর্ঘটনা জনিত কারণ, গ্যাসের লাইন, শিশুদের আগুন নিয়ে খেলার সময়, খোলা বাতির ব্যবহার, সিলিল্ডার ও বয়লার বিস্ফোরণ, যন্ত্রাংশের ঘর্ষণজনিত কারণ এবং উচ্চতাপসহ নানা কারণেও আগুন লাগছে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বগুড়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২০২৫ সালে বগুড়া জেলায় ৭০৯টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ২ জন। আহত হয়েছেন ১ জন। এ সময় আগুনে পুড়ে ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার টাকার। অপরদিকে  আগুন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার   টাকার মালামাল।

এর আগের বছর ২০২৪ সালে বগুড়ায় ৭৭৩টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আগুনে পুড়ে ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার। ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা আগুন থেকে উদ্ধার করতে পেরেছে ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার মালামাল।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান বলেন, মানুষের সচেতনতার অভাবে আগুন লাগার ঘটনা বাড়ছে। মানুষ যত সচেতন হবে, ততই আগুন লাগার ঘটনা কমে আসবে। তিনি বলেন, শুস্ক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাই এ সময় মানুষকে আরো বেশি সচেতন থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

রফিকুজ্জামান আরও বলেন,অসাবধানতাই অগ্নিকান্ডের প্রধান কারণ। তাই অগ্নি প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। রান্নার পর চুলার আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলতে হবে। বিড়ি বা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ নিভিয়ে ফেলতে হবে। শিশুদের আগুন নিয়ে খেলা থেকে বিরত রাখতে হবে, খোলা বাতির ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, দরজা জানালা বন্ধ রেখে গ্যাসের চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপদজ্জনক, সুতরাং গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে অবশ্যই দরজা জানালা খুলে দিতে হবে। রান্না শেষ হলে চুলার চাবি ভাল করে বন্ধ করে দিতে হবে।

অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান দ্বারা নিয়মিত বসতবাড়ি ও ভবনের বৈদ্যুতিক কেবল ও ফিটিংস পরীক্ষা করানোসহ ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ফিটিংস দ্রুত বদলে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, হাতের কাছে সব সময় বালতিতে পানি বা বালু মজদু রাখতে হবে। যাতে আগুন লাগলে প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো ব্যবহার করে আগুন নেভানো যায়।

সহকারী পরিচালকের মতে, বাসগৃহ, কলকারখানা, ভবন, মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপনী যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে এবং প্রয়োজন মুহূর্তে তা ব্যবহার করতে হবে। এব্যাপারে জন সচেতনতা বাড়লে অগ্নিকান্ড কমে আসবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ২ বছরে দেড় হাজার অগ্নিকান্ড, ক্ষতি ১৮ কোটি টাকা, উদ্ধার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ

বগুড়া মহানগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

পেঁপে দিয়ে মুরগির পাতলা ঝোল রান্না করবেন যেভাবে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পৃথক অভিযানে ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২

ই-বাইকের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে? আয়ু বাড়াতে খেয়াল রাখুন ৪টি বিষয়ে

পঞ্চগড়ের বোদায় মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রেফতার ৫