দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে মাচায় রঙিন তরমুজ চাষ করে বাজিমাত মাদ্রাসা ছাত্র মিনাজ উদ্দিনের
বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি মাচা তৈরি করে নানা রঙের তরমুজ চাষ করে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের এক তরুণ। শখের বসে দুই প্যাকেট তরমুজের বীজ দিয়ে শুরু করা চাষ এখন রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।
আধুনিক পদ্ধতিতে এবার শুরু করেছেন দুই জাতের রঙিন তরমুজ চাষ। এর মধ্যে ভালো ফলন পেতে শুরু করেছেন এই উদ্যোক্তা। এই তরুণ উদ্যোক্তা হলেন বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬নং রণগাঁও ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছোট সন্তান মিনহাজ উদ্দিন।
জানা যায়, আলিম পরীক্ষা শেষ করার পর শখের বসে দুই প্যাকেট তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে নিজ জমিতে চাষ শুরু করেন। নিজের অর্থায়নে মালচিং পদ্ধতিতে মাচায় দুই জাতের তরমুজ চাষ করছেন।
এর মধ্যে ‘সূর্য ডিম’ নামের হলুদ রঙের তরমুজটি বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে চাষ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘মার্সেলো’ জাতের কালো তরমুজটি কৃষি অফিসের সরকারি একক ফল বাগান প্রদর্শনীর আওতায় চাষ করা হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমি শখের বসে বাড়ির পাশে নিজের অল্প জমিতে দুই প্যাকেট বীজ দিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেছিলাম। প্রথমবার ভালো ফলন পাওয়ার পর মনে হয়েছে পড়াশোনার পাশাপাশি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে করা সম্ভব।
আরও পড়ুনআমার ৫০ শতক জমি লিজসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১লাখ টাকার তরমুজ বিক্রয় করেছি। বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রয় হবে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ করছি। যারা লেখাপড়া করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে আমার মতো উদ্যোক্তা হতে পারেন। কৃষিকে কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মিনহাজ উদ্দিনকে একক ফল বাগান প্রদর্শনীর মাচায় তরমুজ চাষ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম নিয়মিত মাচায় তরমুজ চাষে তাকে কারিগরি পরামর্শ দিয়েছেন। মিনহাজ উদ্দিনের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হয়েও পড়াশোনার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে যুক্ত হয়েছেন। মিনহাজের মতো শিক্ষিত তরুণদের এমন উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন







