লংমার্চের নামে জ্বালানি অপচয় না করার আহ্বান ইশরাকের
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে লংমার্চের নামে জ্বালানি অপচয় ও জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করে গত ছয় মাসে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা উচিত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদানের আগে খোকসা থানা পরিদর্শন ও গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি ওই লংমার্চ কর্মসূচিটা অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে। তারা প্রথম দিকে বলেছিল লংমার্চ হবে জ্বালানি সংকটের কারণে, অথচ এই লংমার্চ করতে গিয়ে হিসাব বলছে প্রায় ১ লক্ষ লিটার জ্বালানি তেল তারা পোড়াবে। এরপরে তারা বলল এখন সেটা গণরায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে।’
দ্বিতীয় শপথের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শপথ নেই, আমিও তো ছিলাম ইনফ্যাক্ট আমার একটু দেরি হয়ে যাওয়াতে আমি জামায়াতে ইসলামীর সাথে কিন্তু শপথ গ্রহণ করি। প্রথমে আমরা সংবিধান অনুযায়ী আইন অনুযায়ী যে এমপি হিসেবে আমরা একটা শপথ বাক্য পাঠ করি এবং সেখানে একটা কাগজে সাইন করি। পরবর্তীতে আরেকটা কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়, সেটা নীল বা সবুজ রঙের ছিল, যেটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধ।’
তিনি আরও বলেন,‘জনগণ একটা সংস্কার চায় এবং আমরা গণরায়ের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচার করেছি। সেই সংস্কার আমরা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করব। কিন্তু যারা ওই দ্বিতীয় শপথ নিল, যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ, সেই শপথ নেওয়ার মাধ্যমে তো তাদের প্রথম শপথ অবৈধ হয়ে যায় বলে আমাকে অনেকে মতামত দিয়েছেন, যারা আইনের বিষয়ে, সংবিধানের বিষয় বিশেষজ্ঞ। আমি সেই দিকে গেলাম না। আমি বলব যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই তো আমরা সংস্কারটা করতে চাচ্ছি।’
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত সেখানে অংশগ্রহণ করছে না, পার্টিসিপেট করছে না। আবার ওইদিকে তারা লংমার্চের নামে একটা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, জ্বালানি সংকটের সময় তারা জ্বালানি অযথা পোড়াচ্ছে, নষ্ট করছে। তাহলে আমি বলব যে, সরকার হিসেবে আমরা ব্যর্থ বা সফল কি না, সেটার আগে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে ছয় মাসে, সেটা এখন আপনাদের পর্যালোচনা করা উচিত।’
আরও পড়ুনএর আগে সকালে খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
বিকেলে খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যোগ দেন ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে এতিম ও কোরআনের হাফেজদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে ওসমানপুর ইউনিয়নের সরকারি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি।
এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলী, খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1788606858.jpg)
_medium_1788606351.jpg)
_medium_1788605841.jpg)
_medium_1788603689.jpg)
_medium_1788602989.jpg)
_medium_1788600706.jpg)

