৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৭৫২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপাল-চীন সীমান্ত ঘেঁষা ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। এদের মধ্যে ৮৫ জন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন। গতকাল রোববার সর্বশেষ সরকারি হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য কাঠমন্ডু পোস্ট। গতকাল রোববার সকাল ৯টায় প্রকাশিত অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের হালনাগাদ প্রতিবেদনে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের মরদেহ ও দেহাবশেষসহ মোট ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চিতওয়ানে-২৫৯টি। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে নওয়ালপরাসি ইস্ট ও ওয়েস্ট। ইস্টে ১৮৪টি এবং নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গোরখায় ৫৮, নুয়াকোটে ৫২, ধাদিংয়ে ৫০, তানাহুনে ৩৬ এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
বন্যার প্রবল স্রোতে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানির সঙ্গে মানুষ ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে যাওয়ায় অনেক মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের ভাটির এলাকায়উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাসুয়া জেলায়। জেলা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে ৫৬২ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া নুয়াকোটে ১১৫ জন এবং মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় আছেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন। একই সঙ্গে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাদের সঙ্গে ভ্রমণ করা ১২৭ জন নেপালিও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন রয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, বন্যায় মোট ২৪২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা যেমন রয়েছেন, তেমনি চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে মোট ১৯ হাজার ৮৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েন করা নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৮ হাজার ৩৯৯ জন, পুলিশের ৭ হাজার ২১৩ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪ হাজার ২০৩ জন সদস্য রয়েছেন।
৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার : নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার তিন দিন পর কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয় বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে পড়ার কারণে সম্প্রতি ওই গ্রামটি ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়।
আরও পড়ুনদুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত দলগুলো যখন জীবিতদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে, তখন এই উদ্ধারকে বিরল আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবিতদের খোঁজ করার সময় নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। তারা দ্রুত সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন এবং শিশুটিকে খুঁজে বের করে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
প্রাথমিকভাবে তিমুরেতে থাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সীমান্ত চৌকিতে শিশুটির চিকিৎসা করা হয়। তবে পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কর্তৃপক্ষ ওইদিনই তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেয়ার ব্যবস্থা করে। তবে খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে বিলম্বিত হয় ফ্লাইটটি। উদ্ধারকর্মীরা শনিবার বিকেল পর্যন্ত শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল রাখেন। পরে আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছে এবং নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

_medium_1788094792.jpg)
_medium_1788083810.jpg)
_medium_1788081829.jpg)
_medium_1788077136.jpg)
_medium_1788076096.jpg)


