ভিডিও শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৫৭ পিএম

সবার নজর কাড়ল মুক্তিযুদ্ধকালে জিয়াউর রহমানের লেখা চিঠি

বগুড়ায় ডাকটিকিট ও চিঠি প্রদর্শনী শুরু

বগুড়ায় ডাকটিকিট ও চিঠি প্রদর্শনী শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : মহানমুিক্তযুদ্ধের ঘোষক সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধকালীন ৫৫ বছর আগে মেজর রফিককে একটি চিঠি লিখেছিলেন । ১৩ লাইনের ওই চিঠিটি সবার নজর কেড়েছে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ডাক টিকিট ও চিঠি প্রদর্শনীতে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বগুড়ায় ডাক টিকিট ও চিঠি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

বগুড়াপেক্স-২০২৬ নামে দুই দিনের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বিমান বাহিনী পরিচালিত বিএএফ শাহীন কলেজ ও ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বিএএফ শাহীন কলেজের একাডেমিক ভবনে ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশী সাড়ে ৭শ’ ডাকটিকিট স্থান পেয়েছে। তবে ব্যতিক্রমী ওই প্রদর্শনীতে কিছু চিঠিও রাখা হয়েছে। কিন্তু সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জিয়াউর রহমানের নিজ হাতের লেখা একটি চিঠি। ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মেজর রফিককে নিজের হাতে চিঠিটি লিখেছিলেন জিয়াউর রহমান। ৫৫ বছর আগের সংরক্ষিত ওই চিঠির পাশাপাশি প্রদর্শনীতে শত শত দেশি-বিদেশি ডাকটিকিট, বিশেষ খাম ও বিভিন্ন স্মারক স্থান পায়।

এতে ৫০টির বেশি এক্সিবিট প্রদর্শিত হয় এবং অংশ নেন অর্ধশতাধিক ডাকটিকিট সংগ্রাহক। প্রদর্শনীতে জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, শিক্ষা, খেলাধুলা, সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ডাকটিকিট স্থান পায়। ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ৫০ টাকা ও ২ টাকার ডাকটিকিট এবং ২০০৪ সালের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত উদ্বোধনী খাম।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিশেষ খামও প্রদর্শনীতে স্থান পায়। ওই খামে সংযুক্ত ছিল জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ২ টাকার ডাকটিকিট। এসব সংগ্রহের একটি অংশ প্রদর্শন করেন ডাকটিকিট সংগ্রাহক মহিউজ্জামান ইমরান।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, বাংলাদেশের পাখি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, খেলাধুলা, শিক্ষা, সংগীত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকা ও রানী এলিজাবেথসহ নানা বিষয় ডাকটিকিটে তুলে ধরা হয়। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের ইতিহাসসংক্রান্ত ডাকটিকিটও ছিল প্রদর্শনীতে।

ডাকটিকিট সংগ্রহে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও ছিল প্রদর্শনীতে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ডাকটিকিটসংগ্রাহক অহী প্রজ্ঞা এ বছরের শুরু থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭৫০টির বেশি ডাকটিকিট সংগ্রহ করেছে সে।

আরও পড়ুন

অহী বলে, ‘আমি মূলত গান গাইতে পছন্দ করি। তাই বিশ্বজুড়ে সংগীতসংক্রান্ত ডাকটিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’ শিক্ষার্থীদের হাতে লেখা চিঠির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রদর্শনীতে হলুদ খামের ব্যবস্থাও করা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রিয়জনদের উদ্দেশে চিঠি লিখবে এবং সেগুলো পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে ডাক বিভাগ। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত শ্রাবন্তী বলে, ‘এখানে এসে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। একসঙ্গে বিভিন্ন সময়ের ডাকটিকিট দেখলাম।

আমিও ভবিষ্যতে ডাকটিকিট সংগ্রহ করব।’ আরেক শিক্ষার্থী হুমায়রা জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, ‘চিঠির প্রদর্শনী দেখে অনেক ভালো লাগল। এটা আগে কখনো দেখিনি।’ প্রদর্শনীতে আসা তরুণ সাংবাদিক ও শিক্ষক অরূপ রতন বলেন, ‘বগুড়ায় এমন আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

প্রতিটি ডাক টিকিট একেকটা জীবন্ত ইতিহাস। আয়োজকদের কাছে প্রত্যাশা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আয়েঢাজন করা হোক’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ- এর সভাপতি সানাউল হক চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল আল-মাহবুব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোঃ নওশাদ ফাতেমী, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ- এর সাধারন সম্পাদক এসএম ফারুক মাসুম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পোস্টমাস্টার জেনারেল আল-মাহবুব বলেন, ডাকটিকিট সংগ্রহ জ্ঞানের আধার। এর মাধ্যমে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বের নানা বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ফিলাটেলিক জ্ঞান কাজে লাগে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএএফ শাহীন কলেজ বগুড়ার অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন নওশাদ ফাতেমী বলেন, এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।

মোবাইল ও ফেসবুকের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রেখে তাদের ডাকটিকিট সংগ্রহের মতো জ্ঞানভিত্তিক শখে আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন ভূমিকা রাখবে। ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম ফারুক মাসুম বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ডাক বিভাগ তাকে নিয়ে মাত্র ৬টি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

প্রদর্শনীতে সেই টিকিটগুলোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালে তার নিজ হাতে লেখা একটি চিঠিও স্থান দেওয়া হয়েছে। মূলত রণাঙ্গণের বীর যোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই প্রদর্শনীতে তাকে নিয়ে প্রকাশিত ডাক টিকিট এবং হাতে লেখা চিঠি রাখা হয়েছে। তারা দেশব্যাপী ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আয়োজন করে যাচ্ছেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডাকটিকিট সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ডাকটিকিট ও চিঠি প্রদর্শনী শুরু

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ছাগল চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

আইয়ুব বাচ্চুর নামে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যান্ড গড়লেন এসআই টুটুল

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে 'কাস্টমার ফার্স্ট: পেমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস এক্সিলেন্স' শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আকর্ষণীয় অটো লোন সেবা প্রদানে ব্যাংক এশিয়া ও ডিএইচএস মোটরস্-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার