সার নিয়ে হার্ডলাইনে সরকার
সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। বরাদ্দ পাওয়া সার সময়মতো উত্তোলনে গড়িমসি না করতে ডিলারদের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
বরাদ্দ করা সার উত্তোলন নিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিলারদের বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও কৃষিসচিব মো. সেলিম খান। সভায় বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা যায়, সারাদেশে সার নিয়ে তৈরি হওয়া অরাজকতা তৈরি হয়েছে ডিলারদের একটি অংশের সিন্ডিকেট। যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নিজেদের বরাদ্দ উত্তোলন না করেই সারের সংকট বলে প্রচার করে যাচ্ছে। এতে করে বাড়তি দামে সার কেনাসহ নানাভাবে হয়রানিতে পড়েছে কৃষক।
মন্ত্রণালয় বলছে, উত্তরাঞ্চলের অনেকগুলো জেলার ডিলাররা নিজেদের বরাদ্দ না তুলেই ক্রাইসিসের কথা প্রচার করেছে। অনেকে আবার গুদামে সার রেখে বেশি দামে বিক্রি করেছে।
এদিকে, এ চিত্র নিরসনে সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। যারা এই সংকট তৈরির চেষ্টা করছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নজরদারি এবং কেন এ অবস্থা তৈরি হয়েছে তার প্রকৃত কারণ খুঁজতে কৃষিমন্ত্রী ও সচিবসহ ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনএরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিভিন্ন জেলার ডিসি ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- যাতে করে ডিলাররা বরাদ্দের সার উত্তোলনে কোনোভাবেই গড়িমসি করতে না পারেন। শুধু তাই নয়, সার উত্তোলন ও বিক্রির সব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা যে পরিমাণ সার বিক্রি করবে তার পুরোটাই রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। সঙ্গে ক্রেতাকে বিক্রির রশিদ দিতে বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। যাতে করে কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে। এর জন্য অবশ্য ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দোকানে দোকানে অবশ্যই ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের সরকারি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙানোর বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
যারাই এসব নিয়ম মানবে না তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সভায়। এছাড়া সার ব্যবস্থাপনার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের এখনই বাতিল করে দেওয়ার যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বলা হয়েছে- খুচরা বিক্রেতারা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখবে। এখনই তাদেরকে বাতিল করা হচ্ছে না। যখন নতুন ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত হবে এবং তাদের বিক্রয় প্রতিনিধি এই ব্যবস্থায় যুক্ত হবে, তখনই খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম বন্ধ হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







