ভিডিও রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৮ পিএম

বগুড়ার শেরপুরে হাঁস পালনে ফজলুর ভাগ্য বদল, প্রতিদিন দেড় হাজার ডিম সংগ্রহ

বগুড়ার শেরপুরে হাঁস পালনে ফজলুর ভাগ্য বদল, প্রতিদিন দেড় হাজার ডিম সংগ্রহ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: এক যুগ আগে গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে খাবার জন্য হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই প্রত্যাখ্যান থেকেই মনে জন্ম নেয় জেদ, নিজে হাঁস পালন করবেন।

সেই জেদই আজ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। প্রতিদিন তার খামার থেকে আসছে ১২ থেকে ১৫শ ডিম। ছয় মাসের একটি প্রকল্প শেষে খরচ বাদে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তিনি।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমানের সফলতার গল্প এটি। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দারুগ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। মাত্র ২৪ শতাংশ জমির একাংশে রয়েছে পুকুর, অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর।

সীমিত এই জায়গাতেই হাঁস নিয়ে গড়ে উঠেছে তার স্বপ্নের খামার। একসময় অভাব-অনটনের সংসারে দিন কাটলেও হাঁস পালন সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন তিনি স্বাবলম্বী। তার খামার দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও হাঁস পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোর দেখভাল করেন। হাঁসকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ানো হয়। ধান কাটা ও মাড়াই শেষে জমি ফাঁকা থাকলে সেখানে হাঁস ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে হাঁসের খাবারের খরচ কিছুটা কমে আসে। তবে জমিতে হাঁস ছেড়ে দিলে সেগুলো দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, শুরুতে সংসারে অভাব-অনটন ছিল। ধীরে ধীরে হাঁসের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। দীর্ঘ ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় এখন হাঁস পালন সম্পর্কে অনেক কিছু নিজের হাতে শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজ সফল খামারি হিসেবে গড়ে তুলেছে। তার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডিম উৎপাদিত হয়। ছয় মাস পর একটি প্রকল্প শেষ হলে হাঁস বিক্রি এবং অন্যান্য আয় থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

ফজলুর রহমান আরও জানান, দীর্ঘ ১২ বছর হাঁস পালন করলেও এ কাজে তাকে কখনো প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হয়নি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই হাঁসের বিভিন্ন রোগবালাই শনাক্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তার এই অভিজ্ঞতার কথা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন বিভিন্ন এলাকার খামারিরাও হাঁসের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে তার কাছে আসেন।

শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিয়াজ মো. কাওছিম রহমান বলেন, শেরপুর উপজেলায় প্রায় ৫০ জন হাঁসের খামারি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সংখ্যা কমবেশি হয়। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাইয়ের কারণে কোনো খামারি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে আমরা তাদের সচেতন করছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে হাঁস পালনে ফজলুর ভাগ্য বদল, প্রতিদিন দেড় হাজার ডিম সংগ্রহ

সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

বগুড়ার সোনাতলায় ১১৬ শিক্ষকের পদ শুন্য, লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত 

স্টেজ শো’তে অনবদ্য শারমিন কেয়া

আগস্টের ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার কোটি টাকা

ইয়াসমীন ট্রাজেডির ৩১তম বার্ষিকী আজ