ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালন
ঢাবি প্রতিনিধি : ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্যাতন ও নিপীড়নের বেদনাবহ স্মৃতি স্মরণে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘কালো দিবস’ পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি ‘বিভীষিকাময় অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।
তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালের ২০ আগস্টের ঘটনার পর আমরা যে বিভীষিকাময় দিনগুলো পার করেছি, সেগুলো এখনো আমাদের স্মৃতিতে রয়েছে।’ সে সময় শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই অন্যায়, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই সোচ্চার থেকেছে।
আরও পড়ুনতিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের সিনেট অধিবেশনে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধু অতীতের একটি বেদনাদায়ক ঘটনা স্মরণ করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেওয়া।
উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
২০০৭ সালের ঘটনায় কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ যেসব শিক্ষক সে সময় প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন এবং কারাবরণ, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁদের ভূমিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের দৃঢ়তা ও নীতির প্রতি অবিচল অবস্থান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
উপাচার্য বলেন,‘আমরা কালো দিবস পালন করছি শুধু একটি দিনকে স্মরণ করার জন্য নয়; বরং এই শিক্ষা ধারণ করার জন্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না এবং অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়।
মন্তব্য করুন


_medium_1787166124.jpg)
_medium_1787122608.jpg)

_medium_1787066730.jpg)
_medium_1787049585.jpg)
_medium_1787477963.jpg)
_medium_1787476713.jpg)
_medium_1787476093.jpg)