ভিডিও রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৫৬ পিএম

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

রবিবার (৯ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে তারা আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য তাকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

আরও পড়ুন

বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী এফসিডিও (FCDO), আইএলও (ILO) ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বে পরিচালিত ‘রাইজ’ (RAISE) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি নুর ইসলামের জামিন নামঞ্জুর

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঘাঘট নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বাগেরহাটে ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত একটি উদ্ধার

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ কমিটি গঠন