ভিডিও বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪২ পিএম

নওগাঁয় লাগামহীন চিনিগুড়া চালের বাজার কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে

ছবি: সংগৃহীত, নওগাঁয় লাগামহীন চিনিগুড়া চালের বাজার কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে

নওগাঁ প্রতিনিধি: এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যে চাল গত মাসেও ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। চালের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

গত বুধবার দুপুরে নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে আতপ চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে খোলা বাজারে মানভেদে চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা। একই সময়ে কাটারি ও জিরাশাইলসহ চিকন চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে। যদিও মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শহরের বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, চালের এমন দাম বাড়বে ভাবিনি। বাজারে গেলে প্রতিদিনই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। সরকারি নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই চাল কেনা সম্ভব হবে না। কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু চক্র সুযোগ নিচ্ছে ধারণা করছেন ক্রেতারা।

নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০ কেজির একেকটি চিনিগুড়া চালের বস্তার দাম এক মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খোলা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের ব্যবসা ধীরে ধীরে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি মিল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না।

আরও পড়ুন

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, চিনিগুড়া চালের উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা অনেক বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে দাম বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে কারা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। নওগাঁর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার বলেন, সুগন্ধি জাতের চাল সাধারণত বছরে একবার উৎপাদিত হয়। অতীতে এই চাল বিদেশে রপ্তানির অনুমতি ছিল না। সম্প্রতি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে এর কিছু প্রভাব পড়তে পারে।

নওগাঁ জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, দেশের কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বাজারে অভিযান পরিচালনা করব। এরসাথে স্থানীয় ব্যবসায়ী জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সান্তাাহারে আইসক্রিম কারখানায় অভিযান ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ফ্যাক্টারী সিলগালা 

নওগাঁয় লাগামহীন চিনিগুড়া চালের বাজার কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ ভোটে প্রার্থী বাবা, ভর্তি বাতিল শিশুর

বগুড়ায় সুদের টাকা শোধ করতে না পেরে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

নওগাঁয় ফিলিং স্টেশনের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

পাবনায় নবাগত পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের দায়িত্ব গ্রহণ