সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে যে প্রশ্নের সমাধান খুঁজছে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক : টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ চারের লড়াইয়ের আগে দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স স্বস্তির চেয়ে চিন্তাই বাড়াচ্ছে বেশি। কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের দুটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। ফলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বিশেষ করে রক্ষণ ও মাঝমাঠ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর মিশরের বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তবে দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
রক্ষণভাগে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন বিশ্বকাপজয়ী সেন্টারব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছি, তবে অবশ্যই আরও উন্নতি করতে হবে। গোল হজম করলে সেটা আমাদের কিছুটা বিরক্ত করে। এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বকাপ। প্রতিপক্ষরা আমাদের জন্য কোনো কিছুই সহজ করে দেয়নি। যারা এখানে এসেছে, তারা নিজেদের যোগ্যতায় এসেছে এবং ভালো খেলেছে। তবে আমাদের মূল মনোযোগ নিজেদের পারফরম্যান্সে।’
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঝমাঠ শক্তিশালী করতে একাদশে পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদাকে বেঞ্চে রেখে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরু থেকে খেলান তিনি। পারেদেসের সঙ্গে মাঝমাঠে ছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজ। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর হয়নি সেই পরিকল্পনা।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার আগপর্যন্ত মিশরের রক্ষণে তেমন চাপ তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টারের পজিশনিংয়েও ছিল অস্বাভাবিকতা ও বেশ কিছু ভুল। আগের বিশ্বকাপে তিনি এনজো ফার্নান্দেজের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে খেললেও চলতি আসরে তাদের ভূমিকা অনেকটাই বদলে গেছে। মিশরের বিপক্ষে আক্রমণ ও রক্ষণ—কোনো ক্ষেত্রেই নিজের স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে পারেননি ম্যাক অ্যালিস্টার।
অন্যদিকে মাঝমাঠের বাঁ দিকে খেলে আরও গতিশীল ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন দারুণ ছন্দে থাকা এই মিডফিল্ডার। তবে ম্যাক অ্যালিস্টারের ফর্ম আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ডান প্রান্তের খেলোয়াড় ক্যাবরালকে মার্কিং করতে গিয়ে তিনি অনেক জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন ক্যাবরাল, যা আর্জেন্টিনার জয়ের পথ আরও কঠিন করে তোলে।
আরও পড়ুনমিশরের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ অনেকটা উন্মুক্ত ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় মিশর। আর্জেন্টিনার দুই ফুলব্যাক নিয়মিত ওপরে উঠে যাওয়ায় রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কেপ ভার্দে ও মিশর—দুই দলই কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে।
রোববার ভোরে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তরুণ তারকা মানজাম্বিকে পাচ্ছে না সুইসরা। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া এই ফুটবলার টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন। তাকে ছাড়া কোচ মুরাত ইয়াকিন সম্ভবত ভার্গাস, এনদোয়ে ও এমবোলোকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজাবেন।
নকআউট পর্বে এখনো নিজেদের সেরা ফুটবল দেখাতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে কঠিন মুহূর্তে আবারও দলের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন লিওনেল মেসি। মিশরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও গোল ও অ্যাসিস্ট করে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কেপ ভার্দের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার তিনটি গোলের প্রতিটি আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি কঠিন পরীক্ষার আগে তাই মেসির ওপরই বড় ভরসা রাখছে আলবিসেলেস্তেরা।
মন্তব্য করুন









