ভিডিও শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০২৬ ০৬:৪৯ পিএম

পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণ ও চিকিৎসা

সংগৃহীত,পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণ ও চিকিৎসা

 

পাকস্থলীর ক্যান্সার হলো এমন একটি রোগ যেখানে পাকস্থলীর ভেতরের স্তরের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমার তৈরি করে। এটি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়।

নিচে পাকস্থলী ক্যান্সারের সাধারণ ধারণা ও কারণসমূহ আলোচনা করা হলো

পাকস্থলী ক্যান্সারের সাধারণ ধারণাঃ পাকস্থলী আমাদের পেটের উপরের বাম দিকে অবস্থিত একটি ফাঁপা অঙ্গ, যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এই ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এটি প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। মানুষ যখন বুঝতে পারে, তখন ক্যান্সার সাধারণত অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে। তবে শুরুর দিকে শনাক্ত করা গেলে এটি সফলভাবে নিরাময় করা সম্ভব।

পাকস্থলী ক্যান্সারের প্রধান কারণ ও ঝুঁকির বিষয়সমূহঃ বিজ্ঞানীরা এর কোনো একক সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও খুঁজে পাননি, তবে কিছু বিষয় এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণঃ পাকস্থলী ক্যান্সারের প্রধানতম কারণ হলো হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি) নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এটি পাকস্থলীতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ এবং আলসার সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসঃ বেশি লবণযুক্ত খাবার বা নোনতা খাবার নিয়মিত খাওয়া। ধোঁয়া দিয়ে শুঁটকি করা বা আচারে সংরক্ষিত খাবার। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা ফলমূল ও শাকসবজির অভাব।

জীবনযাত্রা ও বদ অভ্যাসঃ ধূমপায়ীদের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে। শরীরের ওজন অতিরিক্ত বেশি হওয়া। বংশগত বা জেনেটিক কারণ। পরিবারের কারো (বাবা-মা বা ভাই-বোন) এই ক্যান্সার থাকলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু বিশেষ জেনেটিক সিনড্রোম (যেমন: লিন্ড সিনড্রোম) এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অন্যান্য শারীরিক অবস্থাঃ পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে অনেকদিন ধরে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ থাকা। আগে কোনো কারণে পাকস্থলীর কোনো অংশ কেটে ফেলা হলে সেখানে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।

পাকস্থলী ক্যান্সারের লক্ষণ ও শনাক্তকরণঃ পাকস্থলী ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ এর লক্ষণগুলো সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। তবে শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখে এটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া সম্ভব।

পাকস্থলী ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ 

প্রাথমিক লক্ষণঃ দীর্ঘস্থায়ী বদহজম বা বুক জ্বালাপোড়া করা। অল্প পরিমাণ খাবার খাওয়ার পরেই মনে হওয়া যে পেট ভরে গেছে। পেটের উপরের অংশে হালকা ব্যথা বা ফোলা ভাব। খাবারের প্রতি অনীহা বা ক্ষুধা কমে যাওয়া। মাঝে মাঝেই বমি বমি ভাব হওয়া।

জটিল বা উন্নত পর্যায়ের লক্ষণঃ কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত শরীরের ওজন কমে যাওয়া। বমির সাথে রক্ত আসা অথবা পায়খানা আলকাতরার মতো কালো হওয়া (এটি পাকস্থলীতে রক্তপাতের লক্ষণ)। পেটের উপরিভাগে ক্রমাগত তীব্র ব্যথা অনুভব করা। খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া। চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (যদি ক্যান্সার লিভারে ছড়িয়ে পড়ে)। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে প্রচন্ড ক্লান্তি বোধ করা।

পাকস্থলী ক্যান্সার সনাক্তকরণ পদ্ধতি 

এন্ডোস্কোপিঃ এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। একটি চিকন নমনীয় পাইপের মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে মুখ দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা সরাসরি পাকস্থলীর ভেতরের অবস্থা দেখতে পান।

আরও পড়ুন

বায়োপসিঃ এন্ডোস্কোপি করার সময় যদি কোনো সন্দেহজনক অংশ দেখা যায়, তবে সেখান থেকে টিস্যু বা মাংসখন্ড কেটে আনা হয় এবং ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয় সেখানে ক্যান্সার কোষ আছে কি না।

সিটি স্ক্যানঃ ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়েছে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে (যেমন লিভার বা ফুসফুস) এর প্রভাব আছে কিনা তা জানতে এই পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত পরীক্ষাঃ রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা লিভারের কার্যকারিতা দেখার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।
এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড: ক্যান্সারের টিউমারটি পাকস্থলীর দেওয়ালে কত গভীরে প্রবেশ করেছে তা নির্ণয়ে এটি ব্যবহৃত হয়।

পাকস্থলী ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করনীয়ঃ

পাকস্থলী ক্যান্সারের চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে ক্যান্সারটি কোন পর্যায়ে আছে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন তার ওপর। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব। নিচে পাকস্থলী ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং এটি 

প্রতিরোধে করণীয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

চিকিৎসকরা সাধারণত এককভাবে বা একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন:

সার্জারিঃ এটি পাকস্থলী ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা। ক্যান্সারের বিস্তৃতি অনুযায়ী পাকস্থলীর কিছু অংশ অথবা পুরো পাকস্থলী অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হতে পারে।

কেমোথেরাপিঃ বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে টিউমার ছোট করতে বা অস্ত্রোপচারের পরে অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষ নির্মূল করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

রেডিওথেরাপিঃ উচ্চশক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। অনেক সময় কেমোথেরাপির সাথে এটি দেওয়া হয়।

টার্গেটেড থেরাপিঃ যদি ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন থাকে, তবে এই থেরাপি শুধুমাত্র ক্যান্সার কোষগুলোকে আক্রমণ করে, যা সাধারণ কোষের ক্ষতি কম করে।

ইমিউনোথেরাপিঃ এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তিশালী করে তোলে।
পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়:

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনঃ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত সবজি এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল রাখুন। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, শুঁটকি মাছ, আচার এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন- সসেজ, বেকন) খাওয়া কমিয়ে দিন। পোড়ানো বা সরাসরি আগুনের তাপে ঝলসানো খাবার (যেমন- বারবিকিউ) নিয়মিত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি ঃ ধূমপান পাকস্থলী ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি বর্জন করুন। শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করুন, কারণ স্থূলতা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আপনার যদি ঐ. ঢ়ুষড়ৎর নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স সম্পন্ন করুন। এটি পাকস্থলী ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। যাদের পরিবারে পাকস্থলী ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে স্ক্রিনিং বা চেকআপ করানো উচিত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণ ও চিকিৎসা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিবাদের অভিযোগ করে কৃষক কারাগারে

আরএফএল গ্রুপে ম্যানেজার নিয়োগ, কর্মস্থল ঢাকা

রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার

স্নাতক পাসে প্রাণ গ্রুপে নিয়োগ, বেতন ৪৫ হাজার টাকা