ভিডিও মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:৩৬ পিএম

ইরান পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশটির জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ তহবিল গঠনের অনুমতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সুবিধা পেতে হলে তেহরানকে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি ও পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত সমঝোতার শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা ও দেশটির পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় তহবিল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত কতটা মেনে চলে তার ওপর। সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকা এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথমে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলটি কোনো সরকার সরাসরি দেবে না। বরং ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অর্থ দিয়ে এটি গঠন করা হতে পারে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী। এমনকি, মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে এই তহবিলের আকার বিশাল হবে। ইরানের ৯ কোটি মানুষের বাজার ও বিপুল জ্বালানি সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে তহবিলটির কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে এই পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে। তিনি বলেন, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে এ ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে কোনো অর্থ এককালীন দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা কিংবা বিনিয়োগ তহবিলের অর্থ ছাড়- সবকিছু ধাপে ধাপে হবে এবং তা নির্ভর করবে ইরানের আচরণ ও অগ্রগতির ওপর।

আরও পড়ুন

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ থেকে ইরানের কাছে ‘এক ডলারও’ পৌঁছায়নি। ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কারণ, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ ছিল, সেই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে সমালোচকেরা বলছেন, বর্তমানে আলোচনায় থাকা আর্থিক প্রণোদনাগুলো বাস্তবায়িত হলে তা ওবামা আমলের চুক্তির সুবিধাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এবার কোনো অর্থ আগাম দেওয়া হবে না ও সব সুবিধাই ইরানের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আস্থা তৈরির লক্ষ্যে শুরুতে ইরানকে কিছু সীমিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। তবে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট সূচকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কোনো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাঁধা নয়। এটি সামগ্রিকভাবে তাদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর নির্ভর করবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের পরমাণু কর্মসূচি। সূত্র : ফিনান্সিয়াল টাইমস

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ম্যাচ শেষেই ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখলে কি অনুভূতি বদলে যায় ?

বিশ্বকাপে কোন দলের সমর্থক, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় চরম অনিশ্চয়তায় নেতানিয়াহু