যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানে হামলা চালায় আমিরাত : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানের ওপর ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে এই হামলা চালায় আমিরাত। এর মাধ্যমে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা থেকে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদি আরব।
গত শুক্রবার (২৯ মে) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলো থেকেই ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করে আমিরাত। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও তাদের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্যত ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে এই হামলাগুলো পরিচালনা করে আবুধাবি। আমিরাতের বিমান হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার ও আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকটি হামলা সরাসরি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে চালানো একটি হামলা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ইসরায়েলকে ইরানের জ্বালানিখাতে হামলা বন্ধের অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো (জিসিসি) প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হতেই আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসে। আমিরাতের এই আকস্মিক ও গোপন হামলার জবাবে চুপ করে থাকেনি ইরান। যুদ্ধের চড়া মূল্য উসুল করতে ইরানি সামরিক বাহিনীও আমিরাতের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে শুরু করে। পুরো যুদ্ধের সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ২ হাজার ৮শ’ বেশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে। ইরানের এই তীব্র পাল্টা হামলায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে আমিরাতের অর্থনীতি।
আরও পড়ুনদেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, পর্যটন খাতে ধস নেমেছে এবং আবাসন বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এরই মধ্যে কর্মী ছাঁটাই এবং অবৈতনিক ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি (১২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার হাওয়া হয়ে গেছে। এছাড়া সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪০০র বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির এয়ারলাইনগুলো।
আমিরাতের এই অতি-সক্রিয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব অত্যন্ত গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, মিডল ইস্ট আই।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







