ঈদ উপলক্ষে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশের
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় এড়াতে যাত্রীদের আগে থেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত চাপ এড়াতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাত্রা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা স্টিমারের ছাদে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ট্রাক, পিকআপ কিংবা অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চালকদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে চাপ না দিতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়িয়ে চলতে যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে। ক্লান্ত, অসুস্থ বা অপেশাদার চালকদের গাড়ি চালাতে না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখার কথা বলা হয়েছে। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ না করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।
নৌপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বৈরি আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। নৌযান মালিকদের লাইফ জ্যাকেট, বয়া ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনযাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলেছে, সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত নিকটস্থ পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট ও পশু পরিবহন নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না। পশুবাহী ট্রাক, লঞ্চ বা নৌযানে অতিরিক্ত পশু বহন না করার পাশাপাশি পশুর গন্তব্য উল্লেখ করে ব্যানার লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহন কোথাও থামানো যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বড় অঙ্কের টাকা বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের কারেন্সি এস্কর্ট নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পিন নম্বর গোপন রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া শপিংমল ও মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, র্যাব কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







