রংপুরের বদরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। সোনালি ধানে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। তবে ধানের দাম আশানুরূপ না পাওয়ায় বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে ১৬ হাজার ১৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৬হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এসব জমিতে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল(উফশী) জাতের বিআর-১৬, ব্রিধান-৮৯, ১০২, ১০৪, ১০৮, ৯২, ৮৮, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের জিরাশাইল ধান।
উপজেলার গোপালপুর, লোহানীপাড়া, রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে ফলন বাম্পার হলেও ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে মোটা বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ৬শ’ টাকায়। আর মিনিকেট ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ’ টাকা মণ দরে। কৃষকদের দাবি- উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই দামে লাভ থাকছে না।
উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিল এলাকার মীরাপাড়ার কৃষক মামুন উর রশিদ বলেন, ধানের বাম্পার ফলন হলে কি হবে! বাজারে তো ধানের দাম কম। একই এলাকার কৃষক খায়রুল মীর বলেন, ধানের দাম যেভাবে কমেছে সেভাবে তো আর সার, কীটনাশক, সেচের দাম কমেনি। কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সরকার যদি ন্যায্য দামে ধান কেনে, তাহলে আমরা বাঁচব। এর অন্যথা হলে সংসারে বিপর্যয় নেমে আসবে।
আরও পড়ুনএব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, বৃষ্টিতে ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একারণে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ও শুকিয়ে গুদামজাত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ধান সংরক্ষণে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু ধানের বাজার মূল্য নির্ধারণে কৃষি অফিসের কোন হাত নেই। তারপরও সরকারের খাদ্য গুদামে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার প্রস্তুতি চলছে। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হবে বলে বিশ্বাস করি।
মন্তব্য করুন






