ভিডিও শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ মে, ২০২৬, ০১:২৭ দুপুর

স্বাধীনতা ঘোষণা বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে সতর্ক করল ট্রাম্প

স্বাধীনতা ঘোষণা বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে সতর্ক করল ট্রাম্প, ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং সেখানে যুদ্ধ কিংবা আন্দোলন-কোনোটাই দেখতে চান না।

চীন সফর ও শি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক শেষে গতকাল শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চাই না কেউ (তাইওয়ান) স্বাধীন হোক।’ যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে আগে বলেছিলেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, তাইওয়ান এরই মধ্যে নিজেকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এমনকি আইনগতভাবেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায়-উপকরণ দিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে দেশটির। প্রায়ই এ বিশেষ মিত্রতা এবং চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, স্বশাসিত দ্বীপটি সম্পর্কে তিনি ‘কোনো দিকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি’।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে বরাবর দাবি করে এসেছে চীন। এমনকি চীনা কর্তৃপক্ষ বলপূর্বক তাইওয়ান দখল করার সম্ভাবনা কখনো উড়িয়ে দেয়নি। অন্যদিকে মিত্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন করে না। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে নিচ্ছে যে চীনে সরকার একটিই (এক চীন নীতি)। অন্যদিকে বেইজিং কখনো তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করেনি। এ নিয়ে চীন বরাবর সরব। এর আগে তাকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ ও ‘আন্তপ্রণালি শান্তি বিনষ্টকারী’ বলেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাইওয়ানের অধিবাসীদের অনেকে নিজেদের স্বতন্ত্র একটি জাতির অংশ মনে করেন। তবে বেশিরভাগই এখনকার পরিস্থিতি জিইয়ে রাখার পক্ষে। অর্থাৎ চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে না; আবার দেশটির সঙ্গে একীভূতও হবে না। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আপনি জানেন, যুদ্ধ করতে হলে আমাদের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল (১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার) দূরে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই, পরিস্থিতি শান্ত হোক। চীনও শান্ত হোক।

আরও পড়ুন

বেইজিং থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদদের বলেন, এবারের চীন সফরে তিনি ও শি চিন পিং দ্বীপটি (তাইওয়ান) নিয়ে ‘অনেক কথা’ বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে শি চিন পিং খুবই ‘শক্ত অবস্থান’ নিয়েছেন। তিনি (চীনের প্রেসিডেন্ট) তাইওয়ানে কোনো স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পর্কে তাইওয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ইস্যু। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বৈঠকে ট্রাম্পকে সতর্ক করে শি বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ ঠিকঠাকমতো সামলানো না গেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে কোনো সংঘাত দেখছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, আমরা ঠিকই থাকব। (শি চিন পিং) যুদ্ধ দেখতে চান না।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাধীনতা ঘোষণা বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে সতর্ক করল ট্রাম্প

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল মায়ের, শিশু গুরুতর আহত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কৃষকের ধান কেটে দিলেন আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই : আরাঘচি

রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

কারিনা বাংলাদেশ তোমাকে মনে রাখবে: ফারুকী