ভিডিও রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫৩ রাত

বর্ষায় ডাকাত থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা চান বগুড়া সারিয়াকান্দির মহিষ বাথানের মালিকরা

বর্ষায় ডাকাত থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা চান বগুড়া সারিয়াকান্দির মহিষ বাথানের মালিকরা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলে ডাকাতদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষায় নিরাপত্তা চান উপজেলার মহিষের বাথানের মালিকেরা। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণসহ ৮ টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর গর্ভে অবস্থিত। ফলে এ উপজেলায় বিশালাকার চরাভূমি রয়েছে। যেখানে প্রতিবছর বিস্তীর্ণ এলাকায় গো চারণভূমির সৃষ্টি হয়।

এসব গো চারণভূমিতে আদিকাল থেকেই মহিষ পালন হয়। চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস থাকায় এসব মহিষ পালন করতে বাড়তি কোনও খরচের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত কয়েকজন খামারি একত্রে মহিষ পালন করেন। কয়েকজন খামারিদের মহিষ একত্রে একটি বাথান তৈরি হয়।

প্রতিটি বাথানে ১০০ থেকে শুরু করে ২০০ বা তার চেয়ে বেশি মহিষ থাকে। প্রতিটি বাথান দেখাশোনার জন্য এক বা একাধিক রাখাল থাকে। রাখালরা সকালে মহিষের দুধ দোহন করে তা বাজারজাত করতে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে মহিষগুলো দলবেঁধে নিয়ে যান চারণভূমিতে।

এইসব চারণভূমি বাথানের মালিকরা জমির মালিকদের নিকট থেকে বেশ উচ্চ মূল্যে ক্রয় করেন। রাখালরা দুপুরে মহিষগুলোকে যমুনা নদীতে গোসল করান। এরপর আবারো চারণভূমিতে নিয়ে যান। সন্ধ্যার দিকে মহিষগুলোকে পুনরায় চরের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়। এরপর রাতে আবারও দুধ দোহন করা হয়। এর মাঝেই রাখালরা মহিষকে ধানের কুঁড়া এবং ভূষি মিশ্রিত পানি খেতে দেন। রাতে রাখালরা মহিষকে পাহারা দেয়ার জন্য মহিষের সাথেই রাত্রি যাপন করেন।

মহিষের সাথে রাত্রিযাপন করাই রাখালদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ গত কয়েকবছর খামারে ডাকাত পড়েছে। কখনো ডাকাতরা রাখালদের তুলে নিয়ে গিয়ে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কখনো বা হাত পা বেঁধে রাখালদের মারপিট করে মারাত্মক আহত করে চলে গেছে। বাথান থেকে নিয়ে গেছে জোরপূর্বক গরু/ মহিষ। এ কাজগুলো সাধারণত বর্ষার মৌসুমেই হয়ে থাকে। তাই আগামী বর্ষার মৌসুমে ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশী নিরাপত্তা চান মহিষের বাথান মালিকসহ রাখালরা।

খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের আমরুলের বাথানে ৪ জন খামারির ১০৬ টি মহিষ, একই ইউনিয়নের লিটন মিয়ার বাথানে ৫ জন খামারির ১৮০ টি মহিষ, হাটশেরপুর ইউনিয়নের আমরুলের ৬ জনের ১৬০ টি মহিষ, হাটশেরপুর ইউনিয়নের শাহজাহানের বাথানে ১৫০ টি মহিষসহ পুরো উপজেলায় প্রায় ১০ টির বেশি বাথান রয়েছে।

সাধারণত একটি বাথান থেকে অপর বাথানের দূরত্ব বেশ কয়েক কিলোমিটার হয়ে থাকে। তাছাড়া চরে এক বাথান থেকে অপর বাথানে নৌকা বা পায়ে হেঁটে ছাড়া চলাচল করার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নাই। তাই খামারিরা একজোট হয়েও ডাকাতদের বিরুদ্ধে শক্ত কোনও প্রতিরোধও গড়ে তুলতে সাহস পান না। তাই তারা ডাকাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা একান্তভাবে কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন

মহিষের খামারি তোতা মিয়া জানান, সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় এবং উচ্চ মূল্যে চারণভূমি কিনতে তাদের মহিষ পালন করতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। তার উপরে আসছে বর্ষাকালে ডাকাতের ভয়। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের কোনও চাওয়া পাওয়া নেই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ, তারা যেনো বর্ষাকালে ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এ জেড এম খালেদ জুলফিকার জানান, উপজেলায় প্রায় ১০০ জন খামারির ৮৫০ টি মহিষ রয়েছে। মহিষদের ব্রিডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন এ আই টেকনিশিয়ান নিয়োজিত রয়েছেন।

এছাড়া মহিষের জন্য বিনামূল্যে কৃমিনাশক ঔষধ সরবরাহও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে খামারিরা যদি আমাদের অভিযোগ জানান, তাহলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, ইতিপূর্বে এ উপজেলায় চুরি বা ডাকাতির মতো বেশকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত ভাটির এলাকা থেকে এসে কিছু দুষ্কৃতকারী এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। তাই বর্ষাকালে খামারিদের মধ্যে এ বিষয়ে আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বাথানের মালিকদের সাথে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।

যাতে কোনও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত আমাদের বিষয়টি অবগত করেন এবং আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। এ বিষয়ে নৌ পুলিশকে সর্বোচ্চ টহল ব্যবস্থা জোরদার করতে পরামর্শ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে আমাদের থানা পুলিশের নৌকায় টহল ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। এটি প্রতিরোধ করতে বাথানের মালিকদের সাথে একাধিক বৈঠক করা হবে। তাদের সাথে বসে একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বর্ষায় ডাকাত থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা চান বগুড়া সারিয়াকান্দির মহিষ বাথানের মালিকরা

বগুড়ায় ‘হ্যাচিং ডিমে’ বেকারি পণ্য তৈরির অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা

আগামী সপ্তাহেই বাজারে উঠবে দিনাজপুর বিরলের রসালো লিচু

ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই : ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অগ্নিকান্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে অনুদান বিতরণ করলেন এমপি মহিত

গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু