মেহেরপুরের দুই উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (১০ মে) সকালে মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর এবং গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
মেহেরপুরের দুই উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (১০ মে) সকালে মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর এবং গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী উর্মি খাতুন (২২) নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে শাশুড়ির অসুস্থতা নিয়ে পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকাকালে উর্মি নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় উর্মির বাবা ভাসান আলী অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার ছাগলকে ভুট্টা খাওয়ানো নিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে স্বামী সোহেল বিশ্বাসের ঝগড়া হয়। এসময় সোহেল তার মেয়েকে মারধর করেন।
অন্যদিকে, গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দেন।
আরও পড়ুনহেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।
পুলিশ উভয় ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌতম কুমার এবং গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তারা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
মন্তব্য করুন