পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হলে অসুস্থ শতাধিক শিক্ষার্থী
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কুয়েত মৈত্রী হলে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া, বমি ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত তিন দিনে অসুস্থতার এই ঘটনা ঘিরে হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানি ও ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও প্রাথমিকভাবে এটিকে পানিবাহিত রোগ বলে ধারণা করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার (৯ মে) হলে মেডিকেল ক্যাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে মেডিকেল সেন্টারে আসেন। তাদের অধিকাংশই ডায়রিয়া, বমি ও পেটের তীব্র সমস্যায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দুইজন চিকিৎসক ইতোমধ্যে হলে কাজ করছেন।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের উপসর্গ পানি বা খাবারের দূষণ থেকে হয়ে থাকে।”
হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, সম্প্রতি পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই পানিতে তীব্র ব্লিচিংয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীদের মধ্যে অস্বস্তি ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, “পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই পানিতে তীব্র ব্লিচিংয়ের গন্ধ। মুখ ধুতে বা কুলি করতে গেলেই বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই অবস্থা।”
আরও পড়ুনতিনি আরও বলেন, “জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্লিচিং ব্যবহার করা হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে উল্টো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।”
আরেক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন অভিযোগ করে বলেন, “ক্যান্টিনের খাবার ও পানির মান দুটোই খারাপ। রান্নার পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। এসব নিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যারা ক্যান্টিনে খায় না, তারাও অসুস্থ হচ্ছে। তাই ধারণা করছি পানিই মূল কারণ। এখন অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে খাচ্ছে।”
এদিকে হল প্রশাসন দাবি করেছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেশাদার কর্মীদের মাধ্যমে পানির চৌবাচ্চা পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে।”
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়—হলের পানি ও খাবারের মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এমন পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








