টিসিবি’র ডিলার নিয়োগের তদন্ত
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বসতবাড়িকে মুদিদোকান হিসেবে দেখাতে কর্মকর্তাকে চাপ
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সারিয়াকান্দিতে একটি বসতবাড়িকে মুদিদোকান হিসেবে দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে আবেদনকারী টিসিবি’র ডিলারের ছেলের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দার সারিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন আবেদনকারী ডিলার।
থানার ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা, মেসার্স যমুনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন কাজলা ইউনিয়নের টিসিবিবি’র ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। আবেদনেরভিত্তিতে এর তদন্তভার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দারের ওপর ন্যাস্ত হয়। রাজ্জাক গত ২৫ মার্চ ডিলারের প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন করে তিনি দেখতে পান, সেখানে কোনও মুদিদোকান নেই।
পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনের কথা শুনে আনোয়ার হোসেনের ছেলে জিল্লুর রহমান (৪৫) আরডিও অফিসে যান। অফিসে গিয়ে আরডিওকে বসতবাড়িকে মুদিদোকান হিসেবে দেখিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তার পক্ষে রিপোর্ট না দেওয়ায় জিল্লুর রহমান আরডিও কর্মকর্তা বরাবর তথ্য অধিকার আইনে অফিসের যাবতীয় তথ্য চেয়ে আবেদন করেন।
এদিকে একই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর টিসিবি’র ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণ নিরসনে গত ৪ এপ্রিল একটি অভিযোগ দায়ের করেন আবেদনকারী ডিলার আনোয়ার হোসেন। সেখানে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিলার নিয়োগে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুনএ বিষয়ে রাজ্জাক উল হায়দার বলেন, জিল্লুর রহমান একটি বসতবাড়িকে মুদিদোকান হিসেবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ দিয়েছেন। মূলত তিনি গ্রামেই থাকেন না। তারা বগুড়া শহরের সাবগ্রাম রেলগেট এলাকায় বসবাস করছেন। রিপোর্ট না দেওয়ায় গত ৮ এপ্রিল তিনি আমার অফিসে এসে জনতা টিভি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে আমার অফিসের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে আমার ব্যাপক মানহানি করেছেন। মূলতঃ সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। আমি এর প্রতিবাদ জানায়।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনাসমূহ তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি অযোগ্য প্রার্থীকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে উভয়ের অভিযোগ তদন্তানাধীন রয়েছে। তদন্তেরভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন







