বগুড়ার শেরপুর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দুর্বল, ভোগান্তিতে পৌরবাসী
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে পৌরবাসীর মাঝে। ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ক’ শ্রেণির এই পৌরসভার আয়তন ১০.৩৯৫ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ৬১ হাজার ১৪১ জন।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পরিচ্ছন্নতা, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় পৌর এলাকার বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। আর এই ভোগান্তি আরো বাড়বে সামনে বর্ষা মৌসুমে।
নাগরিক সেবা নিশ্চিতে পৌরকর্তৃপক্ষ বাস্তবিক কোন ব্যবস্থাই করতে পারছে না। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ নিয়মিত অপসারণ করা হলেও অবশিষ্ট বর্জ্য খোলাস্থানে জমে থেকে পরিবেশ দুষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সড়ক অবকাঠামোর অবস্থা আরো নাজুক। পৌর এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সড়ক আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কে চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বেশিরভাগ ড্রেন আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নিয়মিত ড্রেনগুলো পরিস্কার না করায় আবার যখন ড্রেন পরিস্কার করে ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিন রাস্তার ওপর ফেলে রাখায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুনপৌর এলাকার বাসিন্দা সিরাজ বলেন, কর দিচ্ছি নিয়মিত, কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবা পাচ্ছি না। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এক ব্যবসায়ী আশিকুল জানান, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শামিম বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সীমিত বাজেটের কারণে সেবার পরিধি বাড়ানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে (আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায়) প্রায় ১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা কার্পেটিং, আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত এবং স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
এই প্রকল্পের কাজ ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এ শুরু হয়েছে এবং ৯ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়াও ময়লা ড্যাম্পিংয়ের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে, অনুমোদিত হলে ময়লা-আবর্জনা সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, আমি কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। ইতিমধ্যেই মূল সমস্যাগুলোর খোঁজ নেয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব বিবেচনায় সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পাকা রাস্তা, আরসিসি রাস্তা, আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মন্তব্য করুন







