চার দশক ধরে অভিনয়ে দর্শকপ্রিয়তায় মোহাম্মদ বারী
অভি মঈনুদ্দীন ঃ মোহাম্মদ বারী, একজন দর্শকপ্রিয় নন্দিত অভিনেতা। দর্শক কখনো মঞ্চে তার অভিনয় ভীষণ উপভোগ করেছেন, আবার কখনো টিভি নাটকে, আবার কখনো সিনেমাতেও তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
বিগত চার দশক অর্থাৎ চল্লিশ বছর যাবত তিনি বিশেষত মঞ্চে এবং মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করে যাচ্ছেন। মঞ্চে মোহাম্মদ বারী’র যাত্রা শুরু ‘ঢাকা পদাতিক’ দিয়ে। কিছুদিন এই দলের হয়ে থাকার পর তার নাট্যগুরু এস এম সোলায়মান প্রতিষ্ঠিত করেন নাট্যদল ‘অন্যদল নাট্যসম্প্রদায়’। কিন্তু ১৯৯২ সালে পরবর্তীতে এসএম সোলায়মান প্রতিষ্ঠা করেন ‘থিয়েটার আর্ট ইউনিট’। এই দলের হয়ে এস এম সোলায়মানের নির্দেশনায় প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন বারী ‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকে। ২০১৭ সালে এই দল থেকে আলাদা হয়ে বারী নিজেই প্রতিষ্ঠিত করেন ‘অনুস্বর’ নাট্যদল। এই দলের এখন পর্যন্ত ১২টি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।
যারমধ্যে ‘মূল্য অমূল্য’,‘ হার্মাসিস ক্লিওপেট্রা’,‘ বুদ্ধিজীবির বাসায় শয়তান’ তার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে। মোহাম্মদ বারীর মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা ছিলো ‘সময়ের প্রয়োজনে’ নাটকটি। টিভিতে বারীর প্রথম অভিনীত নাটক ছিলো মফস্বল সংবাদ। বিটিভির প্রথম প্যাকেজে নাটক আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত প্রাচীর পেরিয়ে’তেও তিনি অভিনয় করেছিলেন চিত্রলেখা গুহ’র বিপরীতে। গত ঈদে তাকে দুটি নাটকে দেখা গেছে। একটি ইমরাউল রাফাতের ‘সুপ্তাদের বাড়ি’ অন্যটি রেজানুর রহমানের ‘হ্যালো বলেন’।
এছাড়াও ঈদে রায়হান রাফির আলোচিত সিনেমা ‘প্রেসার কুকার’এও তাকে দেখা গেছে স্নিগ্ধা চৌধুরীর বাবার চরিত্রে। মোহাম্মদ বারী অভিনীত প্রথম সিনেমা আবু সাইয়ীদের ‘নিরন্তর’। এরপর তাকে ‘ড্রেসিং টেবিল’সহ আরো বেশ কিছু সিনেমায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের কিংবদন্তী নায়িকা কবরী পরিচালিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমায় কবরীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন মোহাম্মদ বারী। সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
আরও পড়ুনমোহাম্মদ বারী বলেন,‘ বিগত চার দশক ধরে মঞ্চে, টিভিতে ও সিনেমাতে অভিনয় করে দর্শকের যে ভালোবাসা পেয়েছি একজন শিল্পী হিসেবে তা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তবে আমার কাছে মঞ্চটাই সবার আগে। হোক সেটা মঞ্চে নির্দেশনা কিংবা অভিনয়। যেহেতু কিশোর বয়স থেকেই মঞ্চের সাথে জড়িয়ে আছি, তাই মঞ্চের প্রতি ভালোবাসাটা অনেক বেশি।’
১৯৬১ সালে রংপুরে জন্ম নেয়া বারীর জন্মদিন আগামী ৩ এপ্রিল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক, থাইল্যাণ্ডের এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে এগ্রিকালচারাল সিস্টেম-এ স্নাতকোত্তর এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন বারী। কর্ম জীবনে তিনি বিসিএস-এর সদস্য হিসেবে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন-এর চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে ২০২২ সালে অবসরে যান। তার রচিত বেশকিছু গ্রন্থও রয়েছে। ১৯৯৩ সালের ৪ জুন মোহসীনা বেগম মোনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বারী ও মোনা দম্পতির দুই সন্তান। একজন রোদেলা রুহিন বারী অন্যজন নিঃসর্গ নূহ বারী। বারীর বাবা প্রয়াত মৌৗলভী আবুল হায়াত মা প্রয়াত সুরুতুন্নেসা।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




_medium_1774872419.jpg)
_medium_1774872061.jpg)


