ভিডিও বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৭ রাত

শহীদ তোতা আজাদ চুন্নু হিটলু টিটুসহ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্তের শপথে বগুড়ায় শুরু হয় যুদ্ধ

শহীদ তোতা আজাদ চুন্নু হিটলু টিটুসহ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্তের শপথে বগুড়ায় শুরু হয় যুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :  কোন প্রস্তুতি ছাড়াই বগুড়ার দামাল ছেলেরা ঢাকায় ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার খবর পাওয়ার পর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বগুড়ায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও পুলিশ বাহিনী সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা পাকিস্তানি বাহিনীকে শহরের সুবিল ব্রিজ ও রেলগেট এলাকায় তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য করে। প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রথম শহীদ হন তোতা। এরপর আজাদ, চুন্নু, হিটলু, টিটুসহ বহু অকুতোভয় যোদ্ধা পাক বাহিনীকে প্রতিহত করতে গিয়ে বুক পেতে শহিদ হন, যা স্থানীয়দের মনে অসীম সাহস জোগায়।

ঢাকায় আক্রমণ চালানোর পাক বাহিনীর মধ্যে আশংকা জাগে বগুড়ার আড়িয়াবাজারস্থ আর্মি ক্যাম্প লুট হতে পারে। ২৫ মার্চ  রাতে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বগুড়ার পথে রওনা দেয়। ২৬ মার্চ ভোররাতে একটি দল সুবিল খাল পার হয়ে বগুড়া শহরে ঢোকার চেষ্টা করে। পথে তারা মাটিডালী, বৃন্দাবনপাড়া ও ফুলবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও বর্বরতা চালায়।

শহরের সুবিল ব্রিজের কাছে স্থানীয় বীর জনতা ও পুলিশ বাহিনী পাকবাহিনীর ওপর প্রথম বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দ্বিতীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে শহরের রেলগেট এলাকায়। পাক বাহিনীকে আটকে রাখে এবং দিনভর যুদ্ধ চলে। প্রতিরোধ যুদ্ধে বগুড়ার তরুণ যুবকেরা বীরত্ব প্রদর্শন করেন। শহীদ তোতা ছাড়াও  আজাদ, চুন্নু, হিটল, টিটুসহ নাম না জানা অনেক তরুণ নিজ বুকে বুলেটের আঘাত সহ্য করেও মাতৃভূমি রক্ষায় বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন।

আরও পড়ুন

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই দিন তারা শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারেনি। বগুড়ার এই প্রতিরোধ স্থানীয়ভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল এবং পরবর্তীতে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনায় বড় ভূমিকা রেখেছিল।

শহীদ তোতা, আজাদ, চুন্নু, হিটলু. টিটুসহ নাম না জানা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্তের শপথে বগুড়ায় ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র যুদ্ধ। ১৩ ডিসেম্বর পাক বাহিনীকে হটানোর মধ্যে দিয়ে বগুড়া হানাদার মুক্ত হয়। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যদা না দেওয়ায় তাদের পরিবারের আক্ষেপ রয়েই গেছে। অকুতোভয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা শহীদ হয়ে দেশের জন্য পবিত্র রক্ত বিলিয়ে দিলেও তাদের পরিবারের খোজ কেউ রাখেনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শহীদ তোতা আজাদ চুন্নু হিটলু টিটুসহ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্তের শপথে বগুড়ায় শুরু হয় যুদ্ধ

কিউএস সাবজেক্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকাসক্ত যুবকের আত্মহত্যা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আকিকা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে ৬ জন আহত

২৫ মার্চের গণহত্যা: ঢাবিতে শহীদদের স্মরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত