মামলা প্রত্যাহার না করায়
বগুড়ার আদমদীঘিতে এক নারীকে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘিতে মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি ও তার লোকজন দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদি তার স্বামী-সন্তান ও বোনকে কুপিয়ে জখম ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর করেছে। হামলায় বাদি উম্মে হাফিজার বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ছোট বোন উম্মে হাবিবা উর্মিকে (৩৬) ধাওয়া করে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আগের মামলার বাদি উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে একই গ্রামের ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে-একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে কহির ফকির, তার স্ত্রী আরজিনা বেগম, দুলালী বেগম, আইয়ুব হোসেন ও এখলাস হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে গত বছরের ২৬ আগস্ট পূর্বশক্রতার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানের ছেলে ফয়সাল তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে একই গ্রামের এখলাস হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, একরাম ফকির, দুলালী বেগম ও কহির ফকিরসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ফারসিদ তালুকদারের মা উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে মামলা তুলে নেয়ায় জন্য আসামি দেলোয়ার ওরফে কহির ফকির, সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন বাদি উম্মে হাফিজা ও তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
মামলার জের ধরে ঘটনার দিন গত শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ইফতারের পর আগের মামলার বাদির স্বামী ফয়সাল তালুকদার লিটন ঈদ মার্কেট করার জন্য আদমদীঘি বাজারে যাবার পথে দেলোয়ার হোসেন কহির ফকিরের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র ওঁৎ পেতে থাকা একই গ্রামের আগের মামলার আসামি দেলোয়ার ওরফে কহির ফকির, দুলালী বেগম, আইয়ুব আলী, এখলাস হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কুড়াল, কোদাল, হাসুয়াসহ দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদির স্বামী ফয়সাল তালুকদার লিটনের পথরোধ করে মারপিটে গুরুতর জখম করে। এ খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে আসা লিটনের স্ত্রী উম্মে হাফিজা, ছেলে ফারসিদ তালুকদার মেয়ে নুসরাত জাহান নিহা ও বেড়াতে আসা ছোট বোন রানীনগর উপজেলার ভেবড়ার উম্মে হাবিবা উর্মিকে আসামিরা ধাওয়া করে। তারা আত্মরক্ষার জন্য জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে ধারালো অস্ত্রে দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহত চাজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পর উম্মে হাবিবা উর্মি মারা যান। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার সুযোগে হামলাকারীরা বাদির বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
আরও পড়ুনএ ঘটনায় পরদিন শনিবার (২১) মার্চ দুপুরে নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে থানায় উল্লেখিত ব্যক্তিসহ ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হামলাকারী মহিলাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
মন্তব্য করুন


_medium_1774280218.jpg)
_medium_1774278726.jpg)
_medium_1774277852.jpg)
_medium_1774273493.jpg)
_medium_1774273037.jpg)


_medium_1774284684.jpg)