গৃহবধূর সালমার নিত্যসঙ্গী টিয়ে পাখি মিঠু, তাকে নিয়েই ঈদে কেনাকাটা
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : ‘মিঠু...মিঠু আমার নাম...লাল শাড়ি, লাল শাড়ি।’ এমন কথা বলছিল, ঈদের শাড়ি কেনার সময় গৃহবধূ সালমা বেগমের পোষা টিয়ে পাখি মিঠু। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা পেয়ে বনের পাখিও যে আপন হতে পারে তার উজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের শ্যামলী পাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের স্ত্রী সালমা বেগম।
গত শুক্রবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের থানা মোড়ের সিরাজ তালুকদারের মার্কেটের অপরূপমা বস্ত্রালয়ে গৃহবধূ সালমা তার প্রিয় পোষা পাখি টিয়ে মিঠুকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের শাড়ি কিনতে এসেছিলেন। তিনি যখন দোকানে খয়েরি রঙের শাড়ি পছন্দ করছিল তখন তার সঙ্গে থাকা টিয়ে পাখি ‘লাল’ ‘লাল’ শাড়ি বলে সুরে সুরে কথা বলছিল। এমন সময় তার সাথে দেখা হয় করতোয়া প্রতিনিধি নজরুল ইসলামের।
এসময় মিঠু সম্পর্কে আলাপচারিতায় তিনি জানান, তিন বছর আগে বাড়ি সামনে দিয়ে পাখি নিবেন, পাখি বলে চিৎকার করছিল এক পাখি বিক্রেতা। তার কাছে খাঁচায় বন্দি ছিল অনেকগুলো টিয়ে। তার মধ্যে হতে খাঁচাসহ এই টিয়ে পাখিটিকে আমি কিনি। তিনি বাড়ির বারান্দায় তাকে রেখে দিয়ে ধীরে না ধরণের কথা শিখাতে চেষ্টা চালাতে থাকেন। প্রথমে সে তার ও স্বামী, ছেলে-মেয়ে কাজের বুয়ার নাম বলতে শেখে। এভাবেই খাঁচায় বন্ধি অবস্থায় যখন যে বাড়িতে প্রবেশ করে তখনই তার নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে থাকে।
তিনি জানান, দিন দিন টিয়ে পাখি সাথে তার ভালোলাগা ও ভালোবাসাবাসির এক অন্যরকম সর্ম্পক গড়ে উঠে। এক সময় মিঠুর প্রতি তার অন্য রকম এক অনুভূতি জেগে উঠে। তিনি একদিন সকালে তাকে খাবার খাইয়ে খাঁচার দরজা খুলে বাড়ির জানালা দিয়ে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেন। মিঠু উড়ে প্রতিবেশী আমগাছের ডালে অবস্থান নেন এবং সেখান থেকে কিছুক্ষণ পর অদৃশ্য হয়ে যায়। চোখের সামনে তাকে দেখতে না পেরে খুব খারাপ লাগছিল। আমার অবস্থা তখন ‘পাখি রে তুই কাছে না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না’ গানের মত। মিঠরু এই বিরহ আমার সইতে কষ্ঠ হচ্ছিল।
আরও পড়ুনএমন সময় দেখি টিয়ে পাখি মিঠু ফিরে এসেছে। আমি তখন একটু দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বরান্দায় তার দিকে এগিয়ে যেতেই সে উড়ে এসে আমার ঘাড়ে বসলো। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত মিঠু এই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে আছে। আমি বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়বাড়ি, বাজার যেখানেই যাই-মিঠু থাকে আমার সফরসঙ্গী হিসেবে। তিনি আরও বলেন, আজও তাই তাকে নিয়েই ঈদের কেনাকাটা করতে আসছি। ভাষাহীন প্রাণী আমার সাথে ভাষা পেয়ে কথা বলে এর চেয়ে বড় কোন পাওয়া নেই আমার জীবনে।
সালমার পরিবারে টিয়ে পাখি মিঠু একজন সদস্য হয়ে বসবাস করছে। তার চিকিৎসার জন্য একজন ডাক্তারও আছেন। তিনি মাঝে মাঝে এসে মিঠুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং পরামর্শ দেন।
মন্তব্য করুন







