ভিডিও শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত

আলুর দরপতনের মাঝেই লোকসানের পাল্লা ভারি করল হঠাৎ বৃষ্টি

সংগৃহিত,আলুর দরপতনের মাঝেই লোকসানের পাল্লা ভারি করল হঠাৎ বৃষ্টি

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: প্রকৃতির বৈরি আচরণ ও বাজারে দাম না থাকায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুরের কৃষকেরা। টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় উঠতি আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, একরের পর একর আলুর জমিতে শত শত নারী শ্রমিক আলু উত্তোলনে ব্যস্ত। বৃষ্টি ধারাবাহিকতা থাকলে ফসল পুরো নষ্ট হওয়ার আতঙ্কে যত তারাতারি সম্ভব আলু উত্তোলন করতে চান কৃষক। পোদ্দারপাড়া মাঠে ইকরচালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিলন রহমান শ্রমিক নিয়ে ডুবে যাওয়া আলুর ক্ষেত থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, তার পাঁচ একর জমির আলু ডুবে গেছে। গত শনিবার থেকে আলু তোলার কথা ছিল। পাঁচজন মানুষ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই একর জমির পানিও বের করতে পারিনি। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার, বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল মিলিয়ে রংপুরে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী তিন থেকে চারদিন রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় কখনও রোদ, কখনও মেঘ, আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আলু উত্তোলনের মৌসুম চলছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে বৃষ্টির পানি জমেছে, তা এমনি নেমে যাবে। তবে দীর্ঘসময় বৃষ্টি হলে আলুর ক্ষতি হতে পারে। তিনি জানান, পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুরের আলুর জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলেও ৩ দিনের বৃষ্টিতে রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলার শত শত একর ফসলের জমিতে এখনও পানি রয়েছে। 

আরও পড়ুন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন জানান, উপজেলায় এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে বেশি আলুর আবাদ হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ কম হয়েছে। 

উপজেলার শান্তনা কোল্ড স্টোরেজ, পীরগঞ্জ কোল্ড স্টোরেজ সাবেক তছির উদ্দিন, শাহ ইসমাইল গাজী (রহ) কোল্ড স্টোরেজ ও কৃষিকল বীজ হিমাগার নামে চারটি হিমাগার রয়েছে। এতে ৪৯ হাজার ৫শ’ টন সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে উৎপাদিত বেশির ভাগ আলুই সংরক্ষণের অভাবে বাইরে থাকবে। ফলে কৃষক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতেই দাম কমে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। শুরুতে আগাম জাতের দাম কিছুটা বেশি ছিল।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনআরবিসি ব্যাংকে ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আলুর দরপতনের মাঝেই লোকসানের পাল্লা ভারি করল হঠাৎ বৃষ্টি

নগদে রেমিটেন্স নিয়ে স্বর্ণের হার জিতলেন ফরিদপুরের বন্যা খাতুন

রাজবাড়ীতে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

One Student One Laptop সুবিধার আওতায় ফ্রি ল্যাপটপ পেলো ড্যাফোডিল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা!

১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফর