ভিডিও শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৮ বিকাল

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ৯৫ টাকার বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ৯৫ টাকার বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বস্তার দাম বেড়েই চলেছে। ইফতারের আগে যে বস্তার দাম চাওয়া হয়েছে ১১৭ টাকা, ইফতারের পর সেই বস্তার দাম নেওয়া হয়েছে ১২০ টাকা। আকাশের অবস্থা ভাল নয়, বিপদে পরে বেশি দামে বস্তা কিনেছি।

দেশে কোনো আইন নেই। ইচ্ছে মত বেচাঁ-কেনা চলছে। গত বুধবার সকালে কালাই পৌরশহরের মেসার্স রহিম ট্রেডার্সে বস্তা ক্রয় করতে এসে এমন কথা বলছিলেন কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন।

সারাদেশে আলু উৎপাদনে দ্বিতীয় জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট। বর্তমান বাজারে আলুর দাম কম। বিক্রি করলে লোকশান গুণতে হবে চাষীদের। পুষে নিতে চাষীরা তাদের উৎপাদিত আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রাখছেন। আলু রাখতে গেলে বস্তার প্রয়োজন। সে কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে বস্তার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা যে যার মত করে ইচ্ছেমত দামে পাটের তৈরি বস্তা বিক্রি করছেন।

চাষী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতিপিচ খালি বস্তার দাম ছিল ৯০-৯৫ টাকা। বর্তমানে সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১১৮-১২০ টাকায়। গড়ে প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। কৃষকরা বলছেন, একে তো আলুর বাজার ধ্বস, তার উপর বস্তার দাম চড়া। প্রতি মন আলু বিক্রি হচ্ছে জাত ভেদে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায়। এই দরে আলু বিক্রি করলে মোটা অংকের লোকশান গুণতে হবে। এমনকি মুল তহবিলও হারাতে হবে।

তাইতো উৎপাদিত আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষীরা। এই সুযোগে খালি বস্তা ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে পড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা করে বেশী গুণতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। পাটের দাম বৃদ্ধির ফলে কারখানাতেই উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে বাজারে বেশী দামে বস্তা বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই।

আরও পড়ুন

চাষীরা বলছেন, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে সার, বীজ, সেচ, নিড়ানী, ও শ্রমিক খরচ মিলে ব্যয় হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে আলুর বাজার দর পতনের কারনে প্রতি বিঘার আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। গত বছরের লোকশান মাথায় নিয়ে এবারও ধরা চাষীরা। 
উপজেলার পুনট বাজারের বস্তা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন,‘কয়েক মাস আগেও প্রতিমণ পাটের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২’শ টাকা।

বর্তমানে এক মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা। একটি বস্তা তৈরি করতে ৬’শ গ্রাম পাট লাগে। সে তুলনায় ৬’শ গ্রামের পাটের বাজার মূল্য ৭৫ টাকা। তৈরি করতে কারখানা বিল, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক সব মিলে একটি বস্তা তৈরি করতে ১১০ টাকার মত পড়ে যায়।

জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অনোয়ারুল হক আনু বলেন,‘বর্তমানে পাটের মজুত কমে গেছে, হঠাৎ করে পাটের তৈরি বস্তার চাহিদা বেড়েছে। তারপরও আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে কথা বলব, যাতে সবাই উপকৃত হন।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদের দিনে বৃষ্টির পূর্বাভাস

জবি ছাত্রদল নেতা আশরাফুলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফায় কমলো স্বর্ণের দাম

ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী