১৮, ২১ নাকি ২২ ক্যারেট? গহনা কেনার আগে সোনার পার্থক্য বুঝে নিন
এক সময় সোনা মানেই ছিল ভারী, ঐতিহ্যবাহী সোনার সেট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোনার ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সোনার গহনা শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, এটি বিলাসিতা এবং স্টাইলেরও অংশ। বর্তমানে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে মানানসই গহনা বেছে নেন।
তবে শুধু ডিজাইন দেখে গহনা কিনলেই হয় না, এর গুণমান সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সোনা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি বিনিয়োগও।
২৪ ক্যারেট সোনা
২৪ ক্যারেট সোনা সবচেয়ে বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে পরিচিত। এতে প্রায় ১০০ শতাংশ খাঁটি সেই সোনা খুব নরম হওয়ায় সাধারণ গহনা তৈরিতে খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না। মূলত বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ২৪ ক্যারেট সোনা কেনা হয়। সোনার কয়েন বা বার তৈরিতে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। দেখতে খুব উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হলেও এর স্থায়িত্ব কম হওয়ায় দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
২২ ক্যারেট সোনা
২২ ক্যারেট সোনা প্রায় ৯১.৬৭ শতাংশ খাঁটি। এতে সামান্য পরিমাণে রূপা, দস্তা, নিকেল বা অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে। এই মিশ্রণের কারণে সোনাটি তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং টেকসই হয়। তাই ঐতিহ্যবাহী এবং দামি গহনা তৈরিতে ২২ ক্যারেট সোনা বেশি ব্যবহৃত হয়। বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের গহনায় সাধারণত এই ক্যারেটের সোনা দেখা যায়।
১৮ ক্যারেট সোনা
১৮ ক্যারেট সোনা দেখতে আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারেও বেশ সুবিধাজনক। এতে প্রায় ৭৫ শতাংশ স্বর্ণ এবং ২৫ শতাংশ অন্যান্য ধাতু যেমন তামা বা রূপা থাকে। এই মিশ্রণের কারণে সোনাটি আরও শক্ত হয় এবং বিভিন্ন নকশার গহনা তৈরি করা সহজ হয়। বিশেষ করে হীরা বা বিভিন্ন পাথরখচিত গহনা তৈরিতে ১৮ ক্যারেট সোনা বেশি ব্যবহার করা হয়। যারা স্টাইলিশ এবং আধুনিক ডিজাইনের গহনা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো একটি বিকল্প।
১৪ ক্যারেট সোনা
১৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ৫৮.৫ শতাংশ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। বাকি অংশে অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ থাকে, যা এটিকে আরও শক্ত ও টেকসই করে তোলে। তাই দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ১৪ ক্যারেট সোনা বেশ জনপ্রিয়। চেইন, ব্রেসলেট বা আংটির মতো গহনা এতে সহজেই তৈরি করা যায়। এর রঙ কিছুটা ফ্যাকাশে হলেও ট্রেন্ডি ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বেশ উপযোগী।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মন্তব্য করুন








_medium_1773406615.jpg)
