ভিডিও শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ০৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৯ রাত

তিস্তা ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অনিয়মের অভিযোগে ৬ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল

তিস্তা ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অনিয়মের অভিযোগে ৬ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বাস্তবায়নাধীন সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ব্যবহারের অভিযোগে ৬ হাজার বালুভর্তি ব্যাগ বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কারিগরি টাস্কফোর্স।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ এলাকায় তিস্তা নদীর তীর রক্ষায় প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ব্যবহৃত জিও টেক্সটাইল ব্যাগের পুরুত্ব ন্যূনতম ৩ মিলিমিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সরবরাহকৃত একাংশ ব্যাগে নির্ধারিত এই মান বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রকল্পটির কার্যাদেশ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে প্রকল্পটির বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ছিল একটি ছায়া ঠিকাদারি ব্যবস্থার হাতে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান প্রকল্পটির বাস্তব তদারকিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার প্রভাবেই কাজটি পরিচালিত হচ্ছিল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার আগে মান পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে-পরীক্ষার আগেই কিছু ব্যাগ নদীতে ডাম্পিং শুরু করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাস্কফোর্স, প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের জুন মাসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যাগের নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে জুলাই মাসে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ৬ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে সেগুলো সরাসরি বাতিল ঘোষণা করা হয়। টাস্কফোর্সের সরেজমিন পরিদর্শনেও ব্যাগের পুরুত্বে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়রা জানান, একই জিওব্যাগ বার বার ব্যবহার করে হিসাব দেখানো হয়। এছাড়া নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে নদীভাঙন প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এদিকে ব্যাগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ৫ মার্চ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান দলীয় কয়েকজন নেতাকে সাথে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমান রানা বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ঘটনা জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, টাস্কফোর্স সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী কাজের মান পরীক্ষা করেছে। নির্ধারিত ৩ মিলিমিটার পুরুত্ব না থাকায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব গ্রহণ করা হয়নি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদের দিনে বৃষ্টির পূর্বাভাস

জবি ছাত্রদল নেতা আশরাফুলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফায় কমলো স্বর্ণের দাম

ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী