জামিন পেলেন না হিরো আলম
কোর্ট রিপোর্টার : বিউটি পার্লারের মালিক এক যুবতীকে নায়িকা বানানোর কথা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণসহ মারপিট করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় হাজতি আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলমের (৪০) জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টাইব্যুনাল নং-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক ওই আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, জনৈক সাদিয়া রহমান মিথিলা (২৭) নামের যুবতী বাদি হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যতন টাইব্যুনাল নং-১ এর আদালতে গত বছরের ৪ মে এই মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলা হয়, বগুড়ার এরুলিয়া বানদিঘী পশ্চিমপাড়ার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম ওই বাদিকে ছোট পর্দার নায়িকা বানানোর লোভ দেখায়।
এর পরে হিরো আলম বাদিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। জনৈক মৌলভী ডেকে এনে বাদির সাথে হিরো আলম কবুল বলে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করতে থাকে। এরই মধ্যে শর্টফ্লিম তৈরির জন্য তার কাছ থেকে হিরো আলম ১৫ লাখ টাকা কর্জ নেয়। পরে বাদি হিরো আলমকে বিয়ের কাবিনের জন্য চাপ দিলে সে বাদিকে গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তাকে সন্তান নষ্টের জন্য চাপ দেয়।
বাদি তার সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হলে আসামি হিরো আলম গত ২১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তাকে মারপিট করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর ওই দিন তাকে বগুড়া শহরে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে দিলে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ এপ্রিল ভর্তি করা হলে সেখানে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ করে মর্মে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনপিবিআই পুলিশ পরিদর্শক কবিরুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করে গত ২০ জানুয়ারি সইকৃত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক ওই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আসামি হিরো আলমকে গ্রেফতার করে ওই ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করলে বিচারক ওই আসামিকে হাজতি পরোয়ানামূলে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। মামলাটি পরিচালনা করেন বাদি রাষ্ট্রপক্ষে পিপি এড. আলী আজগার এবং আসামি পক্ষে এড. নুরুল আলম খোকন।
মন্তব্য করুন

_medium_1772025367.jpg)






