হিলির ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ৩১ বছর আজ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর নিখোঁজ সুকুমারের পথ চেয়ে ৯০ বছরের মা
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আজ মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি। হাকিমপুর-হিলির ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ৩১ বছর পূর্ণ হলেও সেদিনের দুর্ঘটনায় আজও খোঁজ মেলেনি অনেকের। তাদেরই একজন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সুকুমার সরকার।
দুর্ঘটনার দিন থেকে তিনি নিখোঁজ, জীবিত না মৃত-জানেন না কেউ। তিনি পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের মৃত সুশিল সরকারের ছেলে। ৯০ বছর বয়সী মা রেনু বালা আজও ছেলের ফেরার আশায় দিন গুনছেন। বয়সের ভারে ঠিকমত কথা বলতে পারেন না রেনু বালা, শুধু কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘মনে হয় হামার সুকুমার একদিন আসবে।’ ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে চেয়েই মারা গেছেন তার স্বামীও।
সুকুমারের বন্ধু মুকুল সরকার বলেন, ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি নতুন ফটো স্টুডিওর মালামাল কেনার জন্য সান্তাহার যান সুকুমার। কেনাকাটা করার পর তার আত্মীয় জয় সুকুমারকে ৫১১ আপ লোকাল ট্রেনে তুলে দেন। কিন্তু ফুলবাড়ী ফেরার পথে হিলিতে ৫১১ আপ লোকাল ও সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুকুমার সরকার নিখোঁজ হন। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর ৩১ বছর পেরিয়ে গেলেও তার খোঁজ মেলেনি। তদন্ত কমিটিতে আবেদন করেও পরিবার কোনো সহায়তা পায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত ও শতাধিক আহত হন। তবে আজও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, নিখোঁজদের ভাগ্যও নির্ধারিত হয়নি। প্রতিবছর ১৩ জানুয়ারি এলেই নিখোঁজদের পরিবার নতুন করে শোক কাতর হন।
আরও পড়ুনউল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় রেল ক্রসিংয়ের উদ্দেশে স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়েছিল গোয়ালন্দ থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী ৫১১ নম্বর লোকাল ট্রেন। এর কিছুক্ষণ পর সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ৭৪৮ নম্বর আন্তনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনে ঢুকে পড়ে। এসময় ঘটে যায় ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ।
এতে বিকট শব্দে গোয়ালন্দ লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি দুমড়েমুচড়ে আন্তনগর ট্রেনের ওপর উঠে যায়। এতে করে লোকাল ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয়রা দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী। সেসময় আনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিহতদের অনেকের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকে। পরে স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধারসহ আহতদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। সেসময় সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন ঘোষণা করা হয়। আর আহতের সংখ্যা বলা হয় শতাধিক।
মন্তব্য করুন







