কবি ও চিন্তক ফয়েজ আলমের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাজ্ঞাপন
স্বতন্ত্র ধারার কবি, উত্তর-উপনিবেশী তাত্ত্বিক ও চিন্তক ফয়েজ আলমের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান ১০ জানুয়ারি’২৬ শনিবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো। ‘ফয়েজ আলম: তাঁর সৃষ্টিশীল পথরেখা’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত উক্ত শুভেচ্ছাজ্ঞাপন ও আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান সিএসপি। শিল্প-সাহিত্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন: ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডটকম, বাঙালমেল, সরলরেখা, বায়োগ্রাফি ফাউন্ডেশন, বুকওয়ার্ম সোসাইটি ও কাব্যস্বর সম্মিলিতভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেখক-গবেষক আবু সাঈদ তুলু, কবি ও কথাশিল্পী জোহরা পারুল, কবি খলিল মজিদ, জহির হাসান, রাজু আহমেদ মামুন, মামুন খান, ইমরান মাহফুজ, মামুন আজাদ, কবি ও লিটলম্যাগ সম্পাদক রিসি দলাই, শওকত হোসেন, ইকতিজা আহসান প্রমুখ। এছাড়া ফয়েজ আলমের সহপাঠী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে কবি ও চিন্তক ফয়েজ আলমের গুণমুগ্ধ পাঠকবৃন্দসহ প্রায় দেড়শতাধিক সাহিত্যপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্মের উপর ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, কবির কবিতা থেকে পাঠ ও আবৃত্তি এবং কবিতার দৃশ্যায়ন প্রর্দশিত হয়। পরে কেক কেটে কবির জন্মদিন উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কবি ফয়েজ আলমের সাহিত্যকর্ম, উত্তর-উপনিবেশী চিন্তাধারা, তাত্ত্বিক পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। তারা বলেন, এ সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক হিসেবে ফয়েজ আলম স্বকীয়তা অর্জন করেছেন। প্রায় তিন দশকের লেখালেখির মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উপনিবেশের অভিজ্ঞতা ও নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে নয়া দৃষ্টিভঙ্গির অবতারণা করেছেন। আর, মননের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের সামগ্রিক চর্চায় নতুন এই বিচারিক দৃষ্টিকোণের প্রায়োগিক সুযোগ ও যথাযথ পরিসরও নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের জনমানুষের কথ্যবাংলাকে তিনি লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন, এ ধারাটি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া জোরদার এক আন্দোলন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ফয়েজ আলম তাঁর 'ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস' বইটিতে বাংলাদেশের জনমানুষের সর্বাঞ্চলীয় কথ্যরীতি সাহিত্যসহ সব ধরনের লেখালেখির মাধ্যম করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর গবেষণামূলক প্রবন্ধের বই ‘বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা’য় তিনি কথ্যবাংলা ব্যবহার করেন।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ফয়েজ আলমের ৫টি কাব্যগ্রন্থ: ‘ব্যক্তির মৃত্যু ও খাপ খাওয়া মানুষ’, ‘জলছাপে লেখা’, ‘রাইতের আগে একটা গান’, ‘আমারে উড়াও ধুলা’, ‘যখন রুহুরে হারায়া ফেলি’; প্রবন্ধের বই ৬টি: ‘প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি’, ‘উত্তর-উপনিবেশী মন’, ‘ভাষা, ক্ষমতা ও আমাদের লড়াই প্রসঙ্গে’, ‘বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব’, ‘ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস’, ‘বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা’ এবং অনুবাদগ্রন্থ: এডওয়ার্ড সাঈদের ‘অরিয়েন্টালিজম’, ‘কাভারিং ইসলাম’, জ্যাক দেরিদা, এডওয়ার্ড সাঈদের নির্বাচিত রচনা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
মন্তব্য করুন


_medium_1768134691.jpg)






