পাবনার ভাঙ্গুড়ায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন গৃহবধূর
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত খানমরিচ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে আদুরী (২৪) খাতুনের সঙ্গে পার্শ্ববতী বৃদ্ধমরিচ পাইকপাড়া গ্রামের আনছার ফকিরের ছেলে হাবিবুর রহমানের প্রায় ৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কে কারণে গত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে (কাজী অফিসে) উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের সময়ে স্বামীর পরিবারের প্রস্তাবে ৩ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে আদুরীকে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে আদুরী খাতুন জানতে পারে তার স্বামী হাবিবুর রহমান যৌতুকের আশায় অন্যত্রে বিয়ের জন্য তাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আদুরী খাতুন নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে।
অনশনকালে আদুরী খাতুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, স্বামী হাবিবুর রহমানকে পাওয়ার জন্য তিনি সবকিছু দিয়েছেন। আমাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ না করলে এ বাড়িতেই তিন আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন।
অনশনকালে আদুরী খাতুনকে বাড়ি থেকে উৎখাতের জন্য স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর-দেবোর মিলে এলোপাথাড়ি মারপিট করে জখম করে ফেলে রাখে। নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে মামা হাফেজুল ইসলাম, মা আয়জান খাতুন আদুরীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। এ বিষয়ে শনিবার রাতেই (১০ জানুয়ারি) ভাঙ্গুড়া থানায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর-দেবরের বিরুদ্ধে আদুরীর মা আয়জান খাতুন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে একদল গণমাধ্যম কর্মী নির্যাতিত আদুরীর শ্বশুরবাড়িতে গেলে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা তালা বন্ধ করে অন্যত্র থাকায় তাদের এ বিষয়ে মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, পুলিশ, সাংবাদিক ও আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আদুরীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরের সকল রুমে তালাবদ্ধ করে অন্যত্রে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুনএ বিষয়ে আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান মামলা দায়ের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন









