ভিডিও শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৩ বিকাল

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি 

মাঘ মাসের আগেই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

মাঘ মাসের আগেই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

স্টাফ রিপোর্টার : মাঘ মাস আসতে এখনও ৪ দিন বাকি। এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ ডিগ্রিতে। বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা  ও শীতল বাতাসে উত্তরাঞ্চলের সাথে সাথে গোটা দেশ শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি হিমালয় সংলগ্ন  জেলা ও উপজেলাগুলোতে।

আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও নামার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এমাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমে ৪ ডিগ্রিতে নামতে পারে।

এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রচন্ড শীতে কাঁবু হয়ে পড়েছে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ ও প্রাণিকূল। গত কয়েকদিন দিনে সূর্য্যের তাপ থাকলে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি কোথাও। সারাদেশেই রাতে ও সকালে ঘণ কুয়াশা এবং প্রচন্ড শীত অনভূত হলেও সূর্য ওঠার কারণে  কয়েকদিন ধরেই  দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল।

রাতভর হিমেল বাতাস থাকার কারণে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে আবার দিনে সূর্য্যরে আলো বের হওয়ার পর তাপমাত্রা বাড়ছে। তাপমাত্রা ওঠা-নামার কারণে শীতের তারতাম্য অনুভ’ত হচ্ছে। আর এ কারণেই  শিশু ও বয়স্ক মানুষ সর্দি-কাশি,এ্যাজমা, হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

হাসপাতাল গুলোতে এসব রোগে ভর্তি রোগির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের এই সময়গুলোতে বেশি সতর্কতার সাথে পার করতে এবং  অপ্রয়োজনে বাসার বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকগণ।

এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কুয়াশার প্রকোপ। শীতে রাস্তাঘাটে লোক চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেমন সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি এমন যে, ভোর ও সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।

দিনে গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েও বেশি দূরের জিনিস দেখা যাচ্ছে না। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় রেল ও নৌ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া রেল গন্তব্যে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। শৈত্য প্রবাহে শহরের ভাসমান মানুষ ও খেটে খাওয়াদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। উষ্ণতার জন্য গরম কাপড়ের দোকানে প্রচন্ড ভিড় করছে শীতার্তরা।

আরও পড়ুন

শীত ও কুয়াশায় বোরো এবং আলুর  আবাদ নিয়ে শংকায় পড়েছেন কৃষক। বেড়েছে শাকসবজির দাম। শীতে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো স্কুলে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বগুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমার এবং  এলাকাভেদে মাঝারী ও ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান সূত্রটি।
 
পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে একাধিক শৈত প্রবাহ বয়ে যাবে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে।

সেই ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার শংকা রয়েছে। তীব্র শীতে শীতজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্ক মানুষরা। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। এই মুর্হতে শীত বস্ত্রের পাশাপাশি মানুষে খাদ্য সহায়তা জরুরী হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে বোরো আবাদ ব্যাহত হতে বসেছে। ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শীতে গবাদি পশুর নানা রোগ বালাই বাড়ছে। ঘটছে প্রাণহানীও।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, পঞ্চগড় জেলা হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থান হওয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নির্ভর করে উত্তরের হিম বাতাসের ওপর। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা না থাকলেও উত্তরের হিম শীতল বাতাসের কারণে সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সেল গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩ লাখ টাকার শীতবস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি প্রায় চুড়ান্ত। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাঘ মাসের আগেই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

প্রার্থিতা বাতিলে হাসনাত-মঞ্জুরুলের পাল্টাপাল্টি আবেদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুইটি বিদেশি ওয়ানশ্যুটারগান ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার 

নতুন রূপে শাহিদ কাপুর

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে মায়ের মৃত্যু

ব্যালট বাক্স নষ্ট বা হারালে ভোট বন্ধ, নতুন তারিখে হবে পুনঃভোট : ইসি