বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ধাপ সুলতানগঞ্জ হাট বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের ধাপসুলতানগঞ্জ হাটটি প্রয়োজনীয় হাটসেট,কাচারি ঘর, বিশুদ্ধ পানি, পয়নিষ্কাশন, পানি নিষ্কাশনের ড্রেনসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। ফলে হাটুরেদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের মধ্যবর্তী দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে ধাপসুলতানগঞ্জ হাটটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার উত্তরে বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ হাট হিসাবে পরিচিত এই হাট। সপ্তাহে দুইদিন বৃহস্পতিবার ও রোববার হাটবার হলেও মূলত বৃহস্পতিবার প্রধান হাট।
দুপচাঁচিয়া পৌরসভার রাজস্ব আয়ের একটি বড় মাধ্যম এই ধাপহাট। এই ধাপসুলতানগঞ্জ হাটটির নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, প্রতিটি দ্রব্য ও পণ্যের কেনা-বেচাঁর জন্য আলাদা আলাদা এলাকা বা পট্টি (হাটি) রয়েছে। যেমন- গরু কেনার জন্য গরু হাটি, ধান কেনার জন্য ধান হটি, মাছ কেনার জন্য মাছ হাটি, মাংস (গোশত) কেনার জন্য মাংস হাটি, তরকারি হাটি, কাপড় হাটি ইত্যাদি। হাটে নিয়ে আসা বিভিন্ন পণ্যের অধিকাংশই দুপচাঁচিয়া ও এর আশেপাশের আঞ্চল থেকে উৎপাদিত। এছাড়াও বাইরে থেকেও কিছু পণ্য সামগ্রী আমদানী করা হয়। এই হাটে সুঁচ থেকে সাইকেল এবং গামছা থেকে জাল সবকিছুই বিক্রি হতে দেখা যায়।
এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান, গম, সরিষাসহ, বিভিন্ন মৌসুমের তরিতরকারী, মসলা, ডাল, শস্য, গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালিন শাক-সবজি, রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপী, খুরমাসহ হরেক রকমের মিষ্টি, পিঠা, দই, দূধ, বিশেষ ভাবে তৈরী ছিন্নী, মুড়ি, মুড়কি, চিড়া, কাঠের আসবাবপত্র, তালের তীর, কূলা, চালুন, খলসানি, দা , বটি, কোদালসহ বিভিন্ন কৃষি কাজের জিনিস পাওয়া যায়। এছাড়াও মাটির তৈরী হাড়ি, পাতিল, হাঁস-মুরগী, কবুতরের বাচ্চা, কোয়েল পাখি, বিভিন্ন ধরনের মাছ, মাংস, মসলা, শস্যের বীজ ইত্যাদি বিক্রি হয়। এছাড়া গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হয়। একসময় বড় বড় কাছিমও (কচ্ছপ) বিক্রি হতো। স্থানীয় কিছু কবিরাজ (হকার) সম্প্রদায় বিভিন্ন ঔষধি গাছ-গাছড়া ও জোঁকের তেল বিক্রি করে। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপদাহে হাটুরেদের ক্লান্তি দূর করতে ঘৃতকুমারী সমৃদ্ধ শরবত বিক্রি হতে দেখা যায়। শীতের সময় খেজুর রস ও গুড় কিনতে পাওয়া যায়।
হাট ইজারাদার আবু সাঈদ ফকির জানান, এই হাটটি দুপচাঁচিয়া পৌরসভার রাজস্ব আয়ের একটি বড় মাধ্যম। প্রতিবছর এই হাট থেকেই প্রায় ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। হাটটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। হাটে প্রয়োজনীয় হাটসেটের অভাব রয়েছে। বৃহৎ এই হাটে ধান ও মাছ, মাংসের হাটসেট ছাড়া অন্য কোন হাটসেট নেই।
আরও পড়ুনদীর্ঘদিন পর প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর তত্বাবধায়নে দ্বিতল বিশিষ্ট একটি হাটসেট (মার্কেট) নির্মাণ কাজ চলছে। হাটে প্রয়োজনীয় পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। দুই একটি থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী। ফলে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ইতিপূর্বে ৩০টি টিউবওয়েল থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। হাটের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। মান্ধাত্বা আমলে নির্মিত ইজারা ঘরটির অবস্থাও করুণ। আধুনিক একটি ইজারাদার ঘর নির্মাণ জরুরী প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
মন্তব্য করুন







