রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শীতে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো বীজতলা, রোপণ নিয়ে শঙ্কা
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চারা মারা যাচ্ছে, আবার অনেক স্থানে জীবিত চারাগুলো হলদে হয়ে পাতা ঝরে পড়ছে। ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপণ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে হঠাৎ তীব্র শীত ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশার কারণে বীজতলার চারায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ১১ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে উপজেলার প্রায় ৫০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে অনেক বীজতলা হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করেছে। কোথাও চারার গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও চারা শুকিয়ে গেছে।
বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা গরম পানি ছিটানো, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ওষুধ প্রয়োগসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় অধিকাংশ বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুনরংপুরের আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী রংপুরের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাথে মৃদু বাতাস রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র সম্ভাবনা থাকে। তবে এখন পর্যন্ত বীজতলায় বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
মন্তব্য করুন







