সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নারীর লাশ দাহ করতে বাধা, শ্মশানের নামকরণ নিয়ে বিরোধ
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : শ্মশানের নামকরণ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে এক নারীর লাশ দাহ করতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে স্বজনরা লাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তাক্ষেপে ৮ ঘন্টা পর লাশটি দাহ করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ঘোষগাঁতী মহাশ্মাশনে।
উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লার সন্তোষ বণিক অভিযোগ করে বলেন, তার মা মিনা বণিক (৬৫) রোববার রাতে পরলোকগমন করেন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) তার লাশ ঘোষগাঁতী শ্মশানে দাহ করতে গেলে ঘোষগাঁতী মহল্লার সাবেক কমিশনার বাবলু কুমার ভৌমিক শ্মশানের চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার স্বজনরা ওই লাশ নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম আরিফ ওই শ্মাশনে মরদেহ দাহের ব্যবস্থা নেন।
এ ব্যাপারে বাবলু কুমার ভৌমিক বলেন, ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে অনেক দিন ধরে ঝিকিড়া মহল্লার লোকজনের সঙ্গে ঘোষগাঁতী মহল্লার বিরোধ চলছে। ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায় ওই শ্মশানটির নাম সবার কাজে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান করার প্রস্তাব করে আসছে। কিন্তু ঘোষগাঁতী মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন-তাদের ছেড়ে দেওয়া জায়গায় প্রায় ২শ’ বছর আগে শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেজন্য এটি ঘোষগাঁতী মহাশ্মশান নামে নামকরণের দাবির পক্ষে অনড় রয়েছেন। এজন্য তিনি চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনউপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার ঘোষ জানান, ঘোষগাঁতী ও ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে কারও লাশ সৎকারে বাধা দেওয়া কখনও উচিত নয়। পরে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ দাহ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম আরিফ জানান, ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানের নাম নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে ওই শ্মশানে কারো লাশ সৎকারে বাধা দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উভয়পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
মন্তব্য করুন







