ভিডিও বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৭:৪৩ পিএম

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু বৃহস্পতিবার

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু বৃহস্পতিবার

প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে শুরু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। জেলা প্রশাসনের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় সব সংস্থার অনুমতি পাওয়ার পর তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে। 
 
প্রথম দিনে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের জাহাজ তিনটি দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
 
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 
 
তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের কারণে এতদিন নৌযান চলাচল সম্ভব হয়নি। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই জাহাজ চলাচল শুরু হবে।
 
নৌপরিবহন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়া ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলী ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফ ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
 
সময়সূচি অনুযায়ী, কক্সবাজার ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ফিরতি যাত্রায় এমভি কর্ণফুলি বেলা ২টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া বেলা আড়াইটায় এবং এমভি টেকনাফ বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।
 
সরকারি সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। এই সময়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতি পাবেন। দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকদের ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দেওয়ার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সাথে রাখতে হবে।
 
তবে পর্যটন মৌসুম চালু হলেও দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতের বেলা সৈকত এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে শব্দদূষণ করা কিংবা বারবিকিউ পার্টির আয়োজন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
 
এছাড়া প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদানের ক্ষতি সাধন সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয়। সৈকতে যেকোনো ধরনের মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
 
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনের পর্যটনশিল্পে আবার গতি ফিরবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এসব সরকারি নিয়ম নীতি যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু বৃহস্পতিবার

১

সুনামগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ৫০

২

১০০ কর্মী নিয়োগ দেবে পাঠাও, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন

৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪

সুনামগঞ্জে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১৫

৫

৪ ডিসেম্বর হচ্ছে না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা

৬