গার্মেন্টসকর্মী তৌফিককে কারা হত্যা করেছে, যা বললেন রাশেদ খাঁন
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরাই তৌফিককে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিক পরিচয়ধারী আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা তৌফিককে হত্যা করেছে। ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে পরিকল্পিত নাশকতার ছক কষেছে আওয়ামী লীগ বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার সিং জিং জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিকের মৃত্যু হয়। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর স্কুলশিক্ষক প্রদীপ কুমার। তিনি জানান, তৌফিক মেধাবী ছাত্র ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব দূর করতে ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে তিনি আহত হন।
আরও পড়ুনশিক্ষক আরও বলেন, তৌফিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। রাত ১১টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় থাকতেন তৌফিক। সেখানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তৌফিকের ওপর চড়াও হয়। তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে অন্য শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








