এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানো বড় কূটনৈতিক সাফল্য : হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে নেওয়াকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সফলভাবে বোঝাতে পেরেছি।’
অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগ দিতে যাওয়ার আগে রবিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে হুমায়ুন কবির ১ থেকে ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় চার দিনব্যাপী কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এ সিদ্ধান্তের ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালের মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল। এর ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সুসংহত এবং মসৃণ উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে।
অধিবেশনের শুরুতে জি-৭৭-এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবসংবলিত একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কোনো সদস্যরাষ্ট্রের আপত্তি ছাড়াই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
এ সময় ফ্রান্স, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।
আরও পড়ুনচলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।
আবেদনে বাংলাদেশ যুক্তি তুলে ধরে যে, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সুসংহত করা এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশলের (এসটিএস) আওতায় অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য।
সরকার আরও বলেছে, মূল পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে উত্তরণ-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতা মোকাবিলা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলো ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদনটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার সুপারিশ করে।
জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) পর্যালোচনার পর এ সুপারিশ করা হয়। কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন দুটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার যৌক্তিকতা রয়েছে।
সিডিপির মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইকোসক পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠায়।
জাতিসংঘের অনুমোদন বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসইভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পেল।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক





_medium_1793530122.jpg)

_medium_1793546695.jpg)
