গোপনে বাল্যবিয়ে, পরে ধুমধাম আয়োজন
বগুড়ার আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে!
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গোপনে বাল্যবিয়ে দেয়ার পর কয়েক দিন বিরতি দিয়ে পরে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত উচ্চ শব্দে বক্স ও সাউন্ড সিস্টেমে গান-বাজনা বাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এতে রাতের ঘুম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অসুস্থ রোগিদের বিড়ম্বনা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও শব্দদুষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের গোপনে বাল্য বিয়ে দেয়ার পর বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলে সেই অভিভাবক, আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাক ঢোক বাজিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বাজানো হয়, যা গভীর রাত পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি।
এমনকি অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশ্রামেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে আনন্দ-উৎসবের নামে অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বাল্য বিয়ে নিষিদ্ধ থাকলেও মানা হচ্ছেনা নিয়ম কানুন।
আরও পড়ুনসচেতন মহলের মতে, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা। এটি প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি। অন্যদিকে, রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা পরিবেশের স্বাভাবিক নীরবতা নষ্ট করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই বিয়েসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা মেনে চলা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় আদমদীঘি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি রাতের বেলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে পায়।
মন্তব্য করুন







