চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে রোগীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির পরামর্শ মেনে মৃগীরোগের (এপিলেপসি) ওষুধ কমানোর পর এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের শোকার্ত বাবা-মা।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবায় এর অপব্যবহার এবং একজন চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে চ্যাটবটের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতার ভয়াবহ ঝুঁকিকে আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
৩১ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম বোয়েন ওয়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে তার এই শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছিল। তবে ২০২১ সালের দিকে তার খিঁচুনির সমস্যা বৃদ্ধি পেলে তিনি অ্যামাজন থেকে মেডিকেল লিভ নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবং নতুন ওষুধের প্রভাবে তার শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি ঘটে।
তবে এই নতুন ওষুধটি গ্রহণের ফলে তার স্মৃতিশক্তি ও স্বাভাবিক চিন্তাধারণায় কিছুটা প্রভাব পড়ছিল, যা নিয়ে ওয়ান মানসিকভাবে বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যেই অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি হারানোর বিষয়টি জানালে তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের সুযোগ বজায় রাখা এবং নতুন চাকরির ভাইভায় ভালো করার মানসিক চাপে পড়ে ওয়ান চ্যাটজিপিটির শরণাপন্ন হতে শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ওয়ান তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, ইনস্যুরেন্স ও প্রতিবন্ধী সুবিধার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্রযুক্তিটি ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে তিনি এর ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ওয়ান সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি বার্তা আদান-প্রদান করতেন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে। ধীরে ধীরে তিনি নিজের স্বজনদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং চ্যাটবটকেই তার প্রধান ভরসাস্থল বানিয়ে তোলেন।
আরও পড়ুনগত ২৭ অক্টোবর বোয়েন ওয়ানের বাবা কুন ওয়ান এবং মা মেইকিন জু আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একটি অবহেলাজনিত হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়, চ্যাটজিপিটি বোয়েন ওয়ানকে তার দৈনন্দিন ‘ল্যামোট্রিজিন’ নামক খিঁচুনিনিবারক ওষুধের মাত্রা প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার একটি ভুল পরিকল্পনা প্রদান করেছিল। শুধু তাই নয়, চ্যাটজিপিটি তাকে এই বিষয়টি নিজের চিকিৎসকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখার জন্যও উৎসাহিত করেছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওষুধের মাত্রা কমিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি শুরু করার পর বোয়েন ওয়ান মানসিকভাবে বিভ্রান্তি, চরম স্মৃতিভ্রষ্টতা এবং অন্যান্য আশঙ্কাজনক শারীরিক উপসর্গের মুখোমুখি হয়ে বারবার চ্যাটজিপিটিকে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পেশাদার চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর বদলে মিথ্যা আশ্বস্ত করেছিল, যা তার পরিস্থিতিকে আরও প্রাণঘাতী করে তোলে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ওয়ান মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, তার মৃত্যুর মূল কারণ ‘সাডেন আনএক্সপেক্টেড ডেথ ইন এপিলেপসি’ বা ‘সুডেপ’।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক




_medium_1793270371.jpg)
_medium_1793268764.jpg)


