দিনাজপুরের কাহারোলে প্লাস্টিক সামগ্রীর কারণে বাঁশশিল্পের বাজারে ধস
কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় দেশের অন্য স্থানের ন্যায় প্লাস্টিক সামগ্রী সহজলভ্য ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে এবং উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বাঁশ শিল্পের বাজার আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। প্লাস্টিকের এসব জিনিস পত্রের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে মুখ থুবরে পড়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ কুটির শিল্পটি। ফলে এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল অনেকেই বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
উপজেলার রামচন্দ্রপুর, উচিৎপুর, মহেশপুর, ভবানীপুর, ভেলয়া, ডাবোর ইউনিয়নের শংকরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের দাস সম্প্রদায়ের লোকেরা পূর্ব কাল থেকে আজ পযর্ন্ত এ পেশায় সাথে জড়িত রয়েছে নিবিড়ভাবে। এক সময়ে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাস সম্প্রদায়ের লোকজন রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনায় বসে বাঁশের চট দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাংগারী, ডালী, টোপা, মাছ ধরার খোলসানী, মোড়া, মুরগীর খাঁচা ও বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরির কাজ করত।
পুরুষের পাশা-পাশি নারীরাও এসব জিনিস তৈরির কাজে পুরুষদের সহযোগিতা করে আসছে। বাঁশের তৈরি এই সব জিনিস পত্র গ্রাম গুলোতে ফেরী করে এবং এলাকার হাট-বাজারে বেচা-বিক্রি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত এবং বিভিন্ন মেলায় এসকল সামগ্রী পসরা সাজিয়েও বিক্রি করা হত।
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের ফলিন বৈষ্য মিঠুন দাশ, স্বপ্না রানী বৈষ্যসহ অনেকেই এ প্রতিনিধিকে জানান, এক সময় গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী খুব কদর ছিল। বর্তমানে সময়ে সেই স্থান গুলো দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি সস্তা দরের রং বে-রঙের নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসমূহ। এখন বাজারে বাঁশের দাম ও মজুরি বেশি হওয়ার কারণে বাঁশের তৈরি জিনিস পত্র তেমন আর বিক্রি হয় না।
আরও পড়ুনরামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষীর মোহন দাস বলেন, এই শিল্পতে ৫০ বছর পার করেছি। এখনও রোজ সকালে বাঁশের তৈরি নানা ধরণের সামগ্রী কাঁধে ঝুঁলিয়ে গ্রাম থেকে গ্রাম পর্যন্ত ঘুরে হাক-ডাক দিয়ে ফেরী করে বেড়াই। বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মত এ কাজে তেমন একটা ভালো লাভ পাওয়া যায় না।
তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আবহমান গ্রাম বাংলার হাজার বছরের বাঁশ শিল্পের এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে বাঁশ উৎপাদনে জনগণকে উৎসাহিত করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন






_medium_1792493323.jpg)

