ভিডিও শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫২ পিএম

বিড়াল পোষার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

বিড়াল পোষার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী

বিড়াল মানুষের অত্যন্ত প্রিয় ও আদুরে এক গৃহপালিত প্রাণী। আমাদের দেশে শখের বশে কিংবা ভালোবাসা থেকে অনেকেই বাড়িতে বিড়াল পোষেন। বিড়াল পোষার কিছু উপকারিতাও রয়েছে। যেমন বিড়ালের সান্নিধ্য মানুষের মানসিক চাপ ও নিঃসঙ্গতা দূর করতে সাহায্য করে, ঘরবাড়িকে ইঁদুরের ক্ষতিকর উপদ্রব থেকে মুক্ত রাখে ইত্যাদি।

ইসলামে বিড়াল পোষার শরঈ বিধান

ইসলামে বিড়াল পোষা জায়েজ বা বৈধ। নবীজির (সা.) অনেক সাহাবি ঘরে বিড়াল পালন করতেন বলে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রার (রা.) উপাধিই হয়েছিল ‘বিড়ালের পিতা’ বিড়ালের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের কারণে। তবে বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে ইসলামের শর্ত হলো, বিড়ালের যথাযথ যত্ন নিতে হবে, সময়মতো পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিতে হবে এবং কোনোভাবেই তাকে অনাহারে বা কষ্টে রাখা যাবে না।

যে কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব বা শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রাখে এবং সেই অবরুদ্ধ অবস্থায় সেটি মারা যায়। সে বিড়ালটিকে আটক রেখে নিজেও পানাহার করায়নি, আবার তাকে ছেড়েও দেয়নি যেন সে নিজে জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৪৮২)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) আল্লামা কুরতুবির (রহ.) সূত্রে উল্লেখ করেন, ‘এ হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিড়াল পোষা এবং তাকে বেঁধে রাখা সম্পূর্ণ জায়েজ যদি তার খাদ্য ও পানির ব্যাপারে কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি না করা হয়।’ (ফাতহুল বারি: ৬/৪১২)

বিড়াল পোষা কি সুন্নত?

আমাদের সমাজে অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, বিড়াল পোষা হয়তো একটি ‘সুন্নত’ আমল। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। নবীজি (সা.) নিজে ঘরে বিড়াল পুষেছেন এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং বিড়াল পোষাকে ‘সুন্নত’ মনে করার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

তবে নবীজির (সা.) ঘরে বা আশপাশে প্রায়শই বিড়াল আসতো এবং তিনি কখনো বিড়ালকে তাড়িয়ে দিতেন না কিংবা কষ্ট দিতেন না। বিড়ালের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল সব সময় দয়ার্দ্র।

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি কি নাপাক?

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একবার নবীজি (সা.) মদিনার ‘বাতহান’ নামক স্থানে গেলেন এবং তাঁকে অজুর পানি এনে দিতে বললেন। হজরত আনাস (রা.) অজুর পানি এনে দিলে নবীজি (সা.) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে অজু করতে উদ্যত হন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি বিড়াল এসে পানির পাত্রে মুখ দিয়ে পানি খেতে শুরু করে। নবীজি (সা.) বিড়ালটির পানি খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেন। হজরত আনাস (রা.) এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বিড়াল ঘরেরই একটি প্রাণী। বিড়াল মুখ দেওয়ার কারণে পানি নোংরা বা নাপাক হয়ে যায় না।’ (নাসবুর রায়াহ)

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘বিড়াল অপবিত্র নয়; এরা তো তোমাদের চারপাশেই ঘুরে বেড়ায়।’ হজরত আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অজু করতে দেখেছি।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৭৬)

এই হাদিসসমূহ থেকে ফেকাহবিদগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি সাধারণ অবস্থায় নাপাক বা অপবিত্র হয় না। তবে বিড়ালের মুখে যদি দৃশ্যমান কোনো অপবিত্রতা বা নাপাকি লেগে থাকে, কেবল সেই অবস্থাতেই বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি নাপাক বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিড়াল পোষার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

১

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’ লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে ছাত্রদলের মশাল মিছিল

২

প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চান সামিউল

৩

বিভাগের দাবিতে বগুড়ায় এনসিপির মানববন্ধন

৪

বগুড়ায় ১৮ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের

৫

বগুড়ার সান্তাহারে বিএনপি’র তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গণসংবর্ধনা

৬