ভিডিও শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:১৯ পিএম

নামাজ না পড়ে ভালো মুসলমান হওয়া যায়?

নামাজ না পড়ে ভালো মুসলমান হওয়া যায়?

‘আমি তো খারাপ মানুষ না, শুধু নামাজটাই যা পড়ি না’ এ জাতীয় কথা অনেকের মুখে শোনা যায়। এ কথাটি কেমন জানেন? এ যেন অনেকটা এমন কথা: ‘আমি তো খারাপ খেলোয়াড় না, শুধু বলটা পাই না!’ ভালো এবং খারাপের সঠিক সংজ্ঞা কী, তা আমরা কতজন ভেবে দেখেছি? আমরা যার যার মতো ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায়ের একটা সংজ্ঞা বানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার বানিয়ে নেওয়া সংজ্ঞাটা কতটা সঠিক, তা বিবেচনা করার সময় আমাদের নেই।

আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালো-মন্দের প্রকৃত সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারণ আমরা সবকিছু জানি না, অথচ তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের সবকিছু জানেন। তিনি ‘আলেমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাহ’। আপনি যখন অনেক ওপরে থাকবেন, তখন অনেক কিছু দেখতে পাবেন, যা নিচে থেকে দেখা যায় না। উঁচু স্থান থেকে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ অতি উচ্চে অবস্থান করে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি যদি কোনো কিছুকে ‘ভালো’ বলেন তবে সেটাই ভালো, আর তিনি যদি কোনো কিছুকে ‘খারাপ’ বলেন তবে তা-ই খারাপ। নিজের সীমিত চোখের দেখা দিয়ে ভালো-মন্দের সংজ্ঞা ঠিক করতে গেলে প্রায়ই ভুল হবে।

বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে। স্বাধীনতা অর্জনের বহু বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের দেশে এখনো নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ পানীয় বা বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। শহরের মোড়ে মোড়ে জঞ্জালের মতো ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের চিত্র আমরা প্রায়ই দেখি। এখন জঙ্গল থেকে আসা কোনো মানুষ, যিনি বিদ্যুৎ কী তা জীবনে দেখেননি বা জানেন না, তিনি যদি শহর সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে সেই ঝুলে থাকা তারগুলো কেটে দেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্যে কোনো খামতি ছিল না। তিনি তো জঞ্জাল মুক্ত করার জন্যই ভালো মনে করে কাজটি করেছেন।

কিন্তু ওই তার কাটার ফলে কোনো হাসপাতালের আইসিইউ সচল রাখার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রোগী মারা যেতে পারে, কোথাও অগ্নিকাণ্ডে মানুষ হতাহত হতে পারে। এখন অপরাধের দায়ে তাঁকে ধরে শাস্তি দিতে গেলে তিনি হয়তো অবাক হয়ে বলবেন, ‘আমি তো জঞ্জাল পরিষ্কার করে ভালো কাজ করলাম, হাসপাতালের রোগীর মৃত্যুর সাথে আমার কী সম্পর্ক?’ কারণ তাঁর কাছে বিদ্যুতের প্রযুক্তির জ্ঞান ছিল না।

মানুষ নিজের বুদ্ধি দিয়ে ভালো-মন্দের মানদণ্ড ঠিক করতে গেলে এমন ভুলই ঘটে। মানুষের বুদ্ধি সীমিত, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি সীমিত। দেয়ালের ওপারে কী ঘটছে, তা-ই আমরা দেখতে পাই না। এই সীমিত ক্ষমতা নিয়ে কোনটা সার্বিক ভালো আর কোনটা খারাপ তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার অধিকার মানুষের নেই। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, যার কাছে বিশ্বজগতের সব রহস্য উন্মোচিত, একমাত্র তিনিই চূড়ান্ত মানদণ্ড দিতে পারেন।

কেউ যদি বলে ‘নামাজ না পড়লে কী হয়েছে, মন তো পরিষ্কার, ইমান তো আছে!’ বিষয়টির বাস্তবতা হলো গা থেকে দুর্গন্ধ আসছে অথচ নিজের নাম রাখা হয়েছে ‘আতর’! আল্লাহ নামাজকে ভালো কাজ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং নামাজ না পড়ে নিজেকে কেবল নিজের ধারণায় ‘ভালো মানুষ’ বলে দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের মনগড়া সংজ্ঞায় আজ যা ভালো, কিছুদিন পর তা খারাপ প্রমাণিত হয়। তাই ভালো ও মন্দের স্থির মানদণ্ড নিতে হবে সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে।

আরও পড়ুন

আমরা যে যুগে বাস করছি, সেখানে মানুষ দ্রুত ফলাফল চায়। ত্বরিত সফলতা আর তাত্ক্ষণিক পরিবর্তন চায়। কিন্তু দ্বীনের পথে অবিচল থাকতে ও ধারাবাহিক আমল বজায় রাখতে যে ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন হয়, আজকের ‘শর্ট অ্যাটেনশন স্প্যান’ ও ডোপামিন-চালিত অস্থির সমাজে তা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তাড়াহুড়ো করা শয়তানের তরফ থেকে আসে, আর ধীরস্থিরতা আসে পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।’

ফলাফল পাওয়ার জন্য মুমিনের তাড়াহুড়ো করা সাজে না। মুমিন তার দায়িত্ব পালন করে দোয়া করবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরবে। আমরা অনেকেই কোনো বিষয়ে দোয়া করেই অধৈর্য হয়ে বলি ‘কই, আমার দোয়া তো কবুল হলো না!’ হাদিস অনুযায়ী, কোনো বান্দা যখন তড়িঘড়ি করে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে, তখন তার দোয়া কবুলের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। দোয়া করার পর ফলাফলের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই হলো মুমিনের নীতি; তিনি এখন কবুল করবেন নাকি ১০ বছর পর, তা তাঁর হেকমত।

বর্তমান আধুনিক পৃথিবীর দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও উচ্চগতির প্রযুক্তির একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মানুষের ভেতরের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেওয়া। সহনশীলতা ও ধৈর্য আজ চরম সংকটে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে ধৈর্য ধারণের তওফিক চেয়ে কাতর প্রার্থনা করতে হবে। কুরআন মাজিদে আমাদের সে দোয়াই শেখানো হয়েছে ‘রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরা’ (হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন)।

সেই সাথে ধৈর্যশীল মানুষের সান্নিধ্যে থাকা এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত এই শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন যে, হুলুস্থুল ও অস্থিরতা শয়তানের প্ররোচনা। কাজের সুনির্দিষ্ট সময়ে গাফিলতি না করে, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মানসিক স্থৈর্য ও স্থিরতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

১

নামাজ না পড়ে ভালো মুসলমান হওয়া যায়?

২

ঝুলে আছে শেখ পরিবারের নামে স্থাপনা বদলের সিদ্ধান্ত

৩

র‌্যাংগস মটরসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, মাসিক বেতন ৭০ হাজার টাকা

৪

পবিত্র ওমরাহ পালনে অভিনেত্রী কেয়া পায়েল

৫

‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪-২০২৫’-এর বিজয়ী লেখকদের নাম ঘোষণা

৬