গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা লিখে মেসির বিদায়
স্পোর্টস ডেস্ক : বিদায়ী ম্যাচে এর চেয়ে সুন্দর গল্প আর কী-ই বা হতে পারত! আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে গোল করলেন লিওনেল মেসি, করালেন আরও দুটি গোল । তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা। আর গোল-অ্যাসিস্টে সাজানো এই জয় দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছরের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে মঙ্গলবার রাতটি ছিল শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচের নয়, ছিল এক কিংবদন্তির বিদায়ের রাত। গ্যালারিজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত চোখ। আকাশি-সাদা জার্সিতে ১০ নম্বর হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন মেসি। সমর্থকদের ভালোবাসার জবাবও দিলেন নিজের চেনা ভাষায়—গোল আর অ্যাসিস্টে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধে বেনিনের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসিও চেষ্টা করেছেন সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে। কিন্তু গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার কিক থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মাপা ক্রসে পাওয়া সেই গোল শুধু আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে দেয়নি, জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যাও নিয়ে যায় ৬৮-তে।
এর ১৩ মিনিট পর আবারও মেসির পায়ের জাদু। ৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তরুণ নিকো পাজকে উদ্দেশ করে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বল পেয়েই দারুণ বাঁকানো শটে বেনিনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পাজ। মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।
দুটি গোল করানোর পর এবার নিজের স্কোরশিটে নাম লেখানোর পালা। ৬৯তম মিনিটে বেনিনের এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। এক মিনিট পর স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মনুমেন্টালের গ্যালারি।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। তিন গোলেই ছিল মেসির সরাসরি অবদান—দুটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটিকে এর চেয়ে স্মরণীয় করে তোলার সুযোগ আর কী-ই বা হতে পারত!
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক মেসির। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর। দীর্ঘ এই পথচলায় ছিল হতাশা, অপেক্ষা ও সমালোচনা; পাশাপাশি এসেছে একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্য। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পান তিনি। পরের বছর ফাইনালিসিমা জয়ের পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দেয় পূর্ণতা। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জিতে সাফল্যের মুকুটে যোগ করেন আরেকটি পালক।
মাঠ থেকে বিদায় নিলেন একজন ফুটবলার, কিন্তু রেখে গেলেন এক বিশাল উত্তরাধিকার। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, রেকর্ড, ট্রফি আর অসংখ্য স্মৃতি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তাই বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টি শুধু আর্জেন্টিনার আরেকটি জয় নয়; এটি মেসির ২১ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার এক আবেগঘন সমাপ্তি—গোল-অ্যাসিস্টে লেখা মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা।
মন্তব্য করুন







