যমুনা নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নে যমুনা নদীর পানি কমলেও থামেনি ভাঙন। বরং পানি কমার সাথে সাথে নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ঘিরে। ভাঙনকবলিত স্থান থেকে উপকেন্দ্রটির দূরত্ব এখন প্রায় ২৫০ মিটার। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎ অবকাঠামোও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পুরান ভারেঙ্গা, নতুন ভারেঙ্গা, কল্যাণপুর চর, বক্তাপুর, চর সিংহাস ও নেওলাইপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও নদীর পাড়ের বড় অংশ একসাথে ধসে পড়ছে, আবার কোথাও ধীরে ধীরে আবাদি জমি ও বসতভিটার দিকে এগিয়ে আসছে ভাঙন। এতে নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের লাইন টেকনিশিয়ান(এলটি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার সময়ও যে জায়গাটিকে নিরাপদ মনে হয়েছিল, রাত ৮টার দিকে আকস্মিক ভাঙনে সেখানকার ৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের একটি খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙন অনেক সময় এত দ্রুত হয় যে খুঁটির সাথে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাওয়া যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উপকেন্দ্রটি বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুনপুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল বলেন, এ বছর কল্যাণপুর চর এলাকায় শত শত বিঘা ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত স্থান থেকে অল্প দূরেই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্ত খুঁটি ও একটি মসজিদ রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম (টেকনিক্যাল) মো. রাশেদুল হক বলেন, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভাঙন আরও কিছুটা এগিয়ে এলে পুরো চরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের একটি খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর প্রায় ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় সংযোগ চালু করা হয়েছে। উপকেন্দ্রটি নদীগর্ভে বিলীন হলে এর আওতাধীন প্রায় ১২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কল্যাণপুরসহ যমুনা তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন








