বগুড়ার ধুনটে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধানে স্বপ্ন বুনছেন যমুনা পাড়ের কৃষকরা
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে কূলে জেগে উঠছে চর। চরের কোথাও সমতল, আবার কোথাও উঁচু-নিচু। কিছু জায়গায় ছোট ছোট গর্ত। সেখানে রয়েছে ছোপ ছোপ জমে থাকা পানি। চরের এসব গর্তে জমে থাকা পানিতে স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ ধান রোপণে জমিতে কোনো চাষ দিতে হয়নি। এ কারণে উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। আর তাই এ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন যমুনা পাড়ের চাষিরা।
স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ ধরে গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এ ধানের চাল চিকন এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খরচ কম হওয়ায় চাষিরা প্রতি বছর যমুনা নদীর চরাঞ্চলের ধান চাষ করে থাকেন। যমুনা নদী থেকে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের চাষিরা স্থানীয় জাতের এই ধান চাষ শুরু করেন।
বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি আসে। উর্বর পলি মাটির ওপর স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান বিনাচাষে রোপণ করেন চাষিরা। কোনো সেচ ছাড়াই এ ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হওয়ার কারণে উঁচু-নিচু পলিমাটির এক চিলতে জায়গাও ফাঁকা রাখতে রাজি নয় চাষিরা। চরের জমিতে চারা গাছ রোপণের ২০-২৫ দিন পর হালকা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। তবে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না এ ফসলে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩-১৫ মণ গাইঞ্জা ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও নিড়ানির কোনো প্রয়োজন না হওয়ায় অল্প খরচে এই ধান চাষিদের ঘরে আসে।
আরও পড়ুনযমুনা পাড়ের চাষিরা জানান, গাইঞ্জা ধান রোপণের উত্তম সময় হচ্ছে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে আশ্বিন মাসের ১৫ দিন পর্যন্ত। তবে এ বছর আশ্বিন মাসব্যাপী এ ধানের চারা লাগানোর কাজ চলবে। এবার ধানের উৎপাদন ভালো হলে তা পরিবারের চাল নিয়ে সারা বছর কোনো চিন্তা করতে হবে না এবং পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ধান বাজারে বিক্রি করতে পারব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, নদীর তীরবর্তী দরিদ্র জনগোষ্ঠী গাইঞ্জা ধান চাষ করছেন। আগে এসব বালুচর পতিত থাকত। নদীর এসব পতিত জমিতে এই ধান চাষ করে চাষিরা সচ্ছলতা পাচ্ছেন। এদিকে যমুনা পাড়ের কৃষকদের এ ধান চাষে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় সহায়ক ভূমিকা এবং চাষাবাদে ভূমিহীনদের আর্থিক অনটন ঘোচার পাশাপাশি এলাকার খাদ্য চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন







