ভিডিও রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫ পিএম

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিহতের ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিহতের ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

দেশে গত সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩৯ জনই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬১টি শিশু এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫৪টি, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন। অন্যদিকে পথচারী নিহত হয়েছেন ১০৬ জন, যা মোট প্রাণহানির ২৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি গত মাসে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়া ২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এ ছাড়া পথচারীকে চাপা দেওয়া বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ১০৯টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৯৮টি এবং অন্য যানবাহনের পেছনে আঘাত করার ঘটনা ৬১টি। বাকি ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য কারণে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের অংশ ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের অংশ ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া থ্রি-হুইলারের অংশ ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং যাত্রীবাহী বাসের অংশ ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। সেখানে ২০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ২৫ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৪ জন, পণ্যসামগ্রীর বিক্রয় প্রতিনিধি ২১ জন, এনজিওকর্মী ১৮ জন, দিনমজুর ১৪ জন, শিক্ষক ১৩ জন এবং ব্যাংক-বিমার কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য দুজন, সেনাসদস্য একজন, সাংবাদিক তিনজন, চিকিৎসক দুজন ও প্রকৌশলী চারজন রয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা। সংস্থাটির মতে, যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেপ্টেম্বরে সড়কে নিহতের ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

১

ইরান যতদিন ইচ্ছা ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে : আইআরজিসি

২

ফেনীতে ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবি কর্মকর্তার মৃত্যু

৩

ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশি মানুষের গড় আয়ু বেশি 

৪

বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার নাগরিকের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার

৫

আবারও বাবা হলেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন

৬